আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.৷৷ করোনা আক্রান্তদের আরো উন্নত চিকিৎসা প্রদানে জিবি হাসপাতালের এমআইসিইউ এবং আরআইসিইউ-তে ভর্তি সাধারণ রোগীদের আইজিএম হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এখন থেকে ওই আইসিইউতে শুধু করোনা আক্রান্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের চিকিৎসা চলবে৷ এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় জিবি হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ড স্থানান্তর করা হয়েছে৷
এদিকে, সরকারী সূত্রে জানা গিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ১৩ জন এমবিবিএস চিকিৎসক নিযুক্ত করেছে৷ তাঁদের মধ্যে পাঁচটি জেলায় দুইজন করে নিযুক্ত করা হয়েছে৷ তাছড়া তিনজন চিকিৎসককে রিজার্ভ রাখা হয়েছে৷ যখন যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে তাঁদের পাঠানো হবে৷ এই তিনজন স্বাস্থ্য দপ্তরের অফিসেই রয়েছেন৷
প্রসঙ্গত, পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ তথা জিবি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপারসন প্রতিমা ভৌমিক বলেন, আজ করোনা আক্রান্তদের আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ তিনি বলেন, জিবি হাসপাতালের এনটিএইচ ভবনে অবস্থিত ১১ শয্যার এমআইসিইউ এবং ৬ শয্যার আরআইসিইউ এখন থেকে করোনা আক্রান্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে৷ ফলে, ওই ওয়ার্ডের সাধারণ রোগীদের আইজিএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে৷ এক্ষেত্রে আইজিএম হাসপাতালে রোগীদের স্থানান্তরে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের এমডি-কে নির্দেশ দেওয়া হবে৷
এদিন তিনি বলেন, ওই আইসিইউ-র সাথেই অবস্থিত ইএনটি ওয়ার্ডের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ কারণ, করোনা আক্রান্তদের সংক্রমণ থেকে সাধারণ রোগীদের সুরক্ষার প্রশ্ণে তা খুবই জরুরি বলে মনে করা হয়েছে৷ ওই ওয়ার্ডটি একই ভবনের নীচতলায় স্থানান্তর করা হবে৷ এদিকে ওই ভবনের তিনতলার সাথে চতুর্থতলা সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য ব্যারিকেড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷
প্রতিমা ভৌমিক জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত আশঙ্কাজনক রোগীদের আইসিইউ-তে নেওয়ার জন্য লিফের সহায়তায় এনটিএইচ-দুই ভবনের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে৷ এছাড়া, কোনও রোগীর অক্সিজেনের অভাব যাতে না হয় সেদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হবে৷ সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য পূর্বের কোভিড-১৯ আইসিইউ-তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করা হবে৷ সে-ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাতুল দে মেডিক্যাল গ্যাস পাইপ লাইন সিস্টেম এবং আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত সমাপ্ত করবেন৷
এজিএমসি অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল ও কোভিড কেয়ার সেন্টারগুলিতে রোগী ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার৷ তাতে জিবি হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে টেলিমেডিসিন ফেসিলিটি চালু করা হয়েছে৷ ফলে প্রতিদিন সকাল ১১টায় বরিষ্ঠ ডাক্তার ও ফ্যাকাল্টিগণ রােগীদের সাথে কথা বলবেন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জানাবেন৷
এছাড়া, প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টায় নােডাল অফিসার কোভিড রোগীর পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলবেন এবং তাঁদের রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবহিত করবেন৷ কোভিড রোগীর পরিবারের সদস্যরা এজিএমসি এবং জিবিপি হাসপাতালে অপেক্ষাগৃহে (শেড) অপেক্ষা করতে পারবেন৷ এই শেডে বসার ও পানীয় জলের বন্দোবস্ত রয়েছে৷
এদিকে, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক এবং জিবি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারকে প্রতিটি কোভিড কেয়ার সেন্টারে একটি হেল্প ডেস্ক খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ সেখানে একটি টেলিফোন এবং একজন অ্যাসিস্টেন্ট থাকবেন৷ তিনি সংশ্লিষ্ট রোগীর স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরিবারের লোকদের জানাতে পারবেন৷ এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের টেলিফোন নম্বর ৮৭৯৪৫৮৭২৩৬ সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে৷
অন্যদিকে, কোভিড কেয়ার সেন্টারের আরও উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য প্রত্যেকটি সেন্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ প্রতিদিন কোভিড সেন্টারে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল টিম জেলাশাসকদের জানাবেন৷



















