গুয়াহাটি, ৫ জুন (হি.স.) : করোনা ভাইরাস, এই নাম শুনলে প্রত্যেককেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। অসমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার অতিক্রম করেছে। কিন্তু ভয়ানক খবর হলো, ট্র্যাভেল হিস্ট্রি নেই এমন মানুষের শরীরে ধরা পড়েছে করোনা ভাইরাস। এই খবরে অনেকেই একে গোষ্ঠী-সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন। তবে সরকারিভাবে এখনও সে সম্পর্কে কোনও ঘোষণা করা হয়নি। আশঙ্কাটি জনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কামরুপ মেট্রো জেলা সদর গুয়াহাটিতে আক্রান্তের মধ্যে একজন মালিগাঁও গোসালার পানিট্যাঙ্কি নিবাসী স্বপ্না বরুয়া। তাঁর কোনো ট্র্যাভেল হিস্ট্রি ছিল না। গোশালার বাজারে স্বপ্নার রয়েছে একটি মুদি দোকান। এই দোকানের উপর নির্ভর করে চলে তাঁর পরিবার। দোকানের গ্রাহক এলাকার অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্না সর্দি-কাশিতে ভুগছিলেন। তাঁকে অনেকবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা করতে তিনি রাজি হননি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্বপ্নার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। তখনই তাঁর শরীরে পাওয়া যায় মারাত্মক করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি। এই খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সমগ্র মালিগাঁও এলাকা।
এদিকে গুয়াহাটির গীতানগরের বাসিন্দা সঞ্জীব ছেত্রী (৩৫) নামের করোনা আক্রান্ত যুবকেরও নেই কোনও ট্র্যাভেল হিস্ট্রি। বেশ কিছুদিন ধরে কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত সঞ্জীবের সোমবার গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এর পরেই জানা যায় সঞ্জীব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কয়েদির শরীরেও ধরা পড়েছে করোনা পজেটিভ। জিণ্টু নাথ নামের এই কোয়েদি চুরির অভিযোগে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিল। সোমবার দিশপুর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে জিণ্টুকে। তারও ছিল না কোনও ট্র্যাভেল হিস্ট্রি।
উল্লেখ্য, এই প্রথম রাজ্যের কোনও কয়েদির শরীরে ধরা পড়েছে করোনা পজিটিভ। বৃহস্পতিবার এই এই কয়েদির দেহে ধরা পড়ে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি। বেলতলা থেকে একটি বাইক চুরি করে ধরা পড়েছিল জিণ্টু। জালুকবাড়ি পুলিশ চোর জিন্টুকে আটক করে দিশপুর থানার জিম্মায় পাঠিয়ে দেয়। দিশপুর পুলিশ ১২২১/২০ নম্বর মামলার ভিত্তিতে আদালতে পেশ করে জিণ্টুকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছিল।
এই খবর পাওয়ার পর কামরূপ মহানগর জেলাশাসক গুয়াহাটির কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করে রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেলতলার বাসিন্দা জিণ্টু অন্য চার কয়েদির সাথে কেন্দ্রীয় কারাগারে আইসোলেশনে ছিল। জিণ্টুর শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার পর কেন্দ্রীয় কারাগারে জিণ্টুর সংস্পৃষ্ট সমস্ত কয়েদির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকিদের রিপোর্ট এখনও আসেনি। জিণ্টুর সংস্পৃষ্ট দিশপুর থানার চার পুলিশ অধিকারিককেও কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। জালুকবাড়িরও সাত পুলিশ কৰ্মীকে কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালুকবাড়ি থানার অনেকের সংস্পর্শে এসেছিল জিণ্টু নাথ। জলুকবাড়ি ও দিশপুর থানাকে সেনিটাইজ করেছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে গুয়াহাটির কেন্দ্রীয় কারাগারে ১,১১৭ জন কয়েদি রয়েছে। অসমে ইতিমধ্যে ২১৫৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।



















