নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই: সন্ত শিরোমণি শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজের ৬৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দেশব্যাপী ‘সম্প্রীতি সংকল্প অভিযান’ কর্মসূচির ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ত্রিপুরাতেও আগামী ২৯ জুলাই থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আট মাসব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে দলের রাজ্য নেতৃত্ব।
এই উপলক্ষে মঙ্গলবার আগরতলায় বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, দলের সহ-সভাপতি অজন্তা ভট্টাচার্য এবং রাজ্য মিডিয়া ইনচার্জ সুনীত সরকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, ‘সম্প্রীতি সংকল্প অভিযান’ শুধু একটি ধর্মীয় কর্মসূচি নয়, এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ। তিনি জানান, সারা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরার প্রতিটি জেলাতেও এই কর্মসূচি পালিত হবে।
তিনি বলেন, ভারতবর্ষের ইতিহাসে বহু মুনি-ঋষি ও মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন, যাঁদের অবদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনও পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন সন্ত শিরোমণি শ্রী গুরু রবিদাস মহারাজ। বারাণসীতে জন্মগ্রহণকারী গুরু রবিদাস সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণে জন্ম নিয়েও মানবতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আধ্যাত্মিকতার বাণী প্রচার করেছিলেন। তৎকালীন সমাজে অস্পৃশ্যতার শিকার হলেও তিনি মানুষের মধ্যে সমতা ও সামাজিক ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
ভগবান চন্দ্র দাস তাঁর বক্তব্যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর উক্তির উল্লেখ করে গুরু রবিদাসের জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে গুরু রবিদাসের আদর্শ ও দর্শন পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী গুরু রবিদাসের জীবন, দর্শন ও আদর্শকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়েছে।
বিজেপির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক জানান, আগামী ২৯ জুলাই থেকে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এদিন বিভিন্ন গুরু রবিদাস মন্দিরে দীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়িতেও গুরু রবিদাস মহারাজকে স্মরণ করার আহ্বান জানান।
দলীয় নেতৃত্বের দাবি, এই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি, সামাজিক সমতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে এবং গুরু রবিদাসের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।



















