নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই ৷৷ বাড়তে চলেছে বিদ্যুৎ মাশুল৷ এমনটাই আজ ইঙ্গিত দিলেন বিদ্যুৎ নিগমের সিএমডি এম এস কেলে৷ তাঁর কথায়, অন্তিমবার ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ মাশুল বাড়ানো হয়েছিল৷ এরপর থেকে গত ৫ বছরে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি পায়নি৷ কিন্তু, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি বলে দাবি করেন তিনি৷

এদিকে, ভোক্তাদের পরিষেবায় আপোষ হোক, তবুও যত কম লোক নিয়োগ করে কাজ চালানো যায়, সেই পথেই এতদিন হেঁটেছে বিদ্যুৎ নিগম৷ ফলে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে গ্রাহক অশান্তি চরমে পৌছে যায়৷ কিন্তু, সম্প্রতি বিদ্যুৎ মন্ত্রী তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে এখন শূন্যপদে নিয়োগ করতে চলেছে নিগম৷ আজ বিদ্যুৎ নিগমের সিএমডি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, শীগ্রই ১৯২ জন কর্মী চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে৷
প্রসঙ্গত, বিদ্যুতের যন্ত্রনায় ত্রিপুরায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল৷ প্রায়শই লোডশেডিং এর ফলে যন্ত্রনা আরও বেড়ে গিয়েছিল৷ তাই বাধ্য হয়ে মাঠে নামেন বিদ্যুৎমন্ত্রী৷ তিনি সাফ বলে দেন, কর্মীস্বল্পতা দূর করে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে৷
আজ নিগমের সিএমডি এম এস কেলে জানিয়েছেন, আগরতলায় ৭৯ টিলা স্থিত সাব স্টেশনে বিরাট সমস্যা দেখা দেওয়ায় কয়েকদিন বিদ্যুৎ যন্ত্রনায় ভোক্তাদের ভুগতে হয়েছে৷ তবে, এখন সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে৷ তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু সমস্যা সময়ের মধ্যেই সমাধানে তৎপর রয়েছে নিগম৷
তার কথায়, রাজ্যে ৮ লক্ষ ২২ হাজার ৪৫৯ জন ভোক্তা রয়েছেন৷কিন্তু, তাদের মধ্যে সরকারি দপ্তরগুলি থেকে ৯০ কোটি এবং সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে৷
এদিকে, বিদ্যুতের সমস্যা দ্রুত সমাধানে লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি৷ তার কথায়, দীর্ঘ বছর ধরে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে৷ ফলে অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ পদে লোক নিয়োগ করা হচ্ছে না৷ কিন্তু, এখন ১৯২ জন কর্মী চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ তার আশা, বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে রাজ্যে৷
এদিন বিদ্যুৎ নিগমের সিএমডি বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করেছেন৷ তিনি জানান, ২০১৪ সালে অন্তিমবার বিদ্যুৎ বাড়ানো হয়েছিল৷ এরপর থেকে বাড়ানো হয়নি বিদ্যুৎ মাশুল৷ কিন্তু, প্রতিবছর নিগমের ব্যয় বেড়েছে৷ আয়ের সাথে সাজ্জুজ রেখে ব্যয় বরাবরই বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তাঁর কথায়, নিগমের আর্থিক স্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি খুবই জরুরি৷ কারণ, বাংলাদেশ এবং সম্প্রতি নেপালকে বিদ্যুৎ বিক্রি করে নিগমের লোকসান অনেকটাই কমেছে৷ তবুও, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি না হলে লোকসান হওয়া স্বাভাবিক৷ তিনি জানান, বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করছে রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের উপর৷ তারাই মাশুল নির্ধারন করে থাকে৷ তাঁর বক্তব্য, শীঘ্রই বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷ ওই বৈঠকে মাশুল বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে৷ ফলে, শীঘ্রই বিদ্যুতের মাশুল বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা ভুল হবে না৷



















