নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই৷৷ অগ্ণিনির্বাপক দপ্তরের অধিকর্তা জয়দ্বীপ নায়েককে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ ওড়িশা থাকাকালীন জয়দ্বীপ নায়েক ৮৮ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ এই মামলার কারণে ত্রিপুরাতে থাকাকালীন সময়ে তিনি চারবার কাউকে কিছু না বলে রাজ্যন্তরী হয়েছিলেন৷ এসমস্ত বিষয় রাজ্য সরকারের গোচরে আসলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়৷ এই তদন্তে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগে সত্যতা পাওয়া যায়৷ এই কারণে আজ রাজ্য সরকার তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ ওড়িশায় তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল সেই মামলায় গ্রেপ্তারি এড়াতে এখনো তিনি পলাতক৷ রাজ্যে সম্ভবত এই প্রথম কোন আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজ্য সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে৷
সূত্র অনুসারে জানা গেছে, রাজ্যে ভিজিলেন্স টিমের তদন্তে আরো কয়েকজন পদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে৷ যতদূর জানা গেছে, বন দপ্তরে চারজন পদস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে জমি আত্মসাৎ, দুর্নীতি এবং চারিত্রিক অধঃপতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে আরো মাস ছয়েক আগেই৷ অথচ কোন এক অজ্ঞাত কারণে রাজ্য সরকার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কোন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না৷
জয়দ্বীপ নায়েকের অর্থ নয়ছয়ের ঘটনাটি প্রায় এক বছর আগে জয়দ্বীপ নায়েক ওড়িশা থাকাকালীন ৮৮ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠেছিল তার বিরুদ্ধে৷ সে বিষয়ে মামলাও হয়েছিল৷ এই নয়ছয়ের সাথে জড়িত অপরাধে ওড়িশায় এক পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি পুলিশ সুপারকে ওড়িশা সরকার বরখাস্ত করেছে৷ বর্তমানে তারা জেলে রয়েছেন৷ এরই মধ্যে জয়দ্বীপ নায়েক রাজ্যে অগ্ণিনির্বাপক দপ্তরে অধিকর্তা পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন৷ কিন্তু যেহেতু তার বিরুদ্ধে মামলা চলছিল, সে কারণে কাউকে কিছু না জানিয়ে চারবার রাজ্যন্তরী হয়েছিলেন জয়দ্বীপ নায়েক৷ কিছুদিন আগে ওড়িশার ভিজিলেন্স টিম তাকে ডেকে পাঠায়৷ বিষয়টি তখন রাজ্য সরকারের গোচরেও আসে৷ ভিজিলেন্সের ডাকে জয়দ্বীপ নায়েক ওড়িশার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিল্লি চলে যান৷ সেখানে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে অসুস্থতার ভান করে ভর্তি হয়ে যান৷ সেখানে তাকে নজর বন্দি করে রাখা হয়৷ কিন্তু কয়েকদিন আগে মাঝরাতে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে জয়দ্বীপ নায়েক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান৷ এসমস্ত কিছুর ভিত্তিতে রাজ্য সরকার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে৷ রাজ্য সরকারের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়৷ এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বরখাস্ত করা হয়৷

















