পঃ বঙ্গে শেষ দফার ভোট আজ, বাড়ছে নজরদারী

election-websiteকলকাতা, ৪ মে(হিস)৷৷ বৃহস্পতিবার শেষ দফায় ২৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন৷ দুই জেলায় বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি৷ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৫০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে শেষ দফায় ভোট করাতে চলেছে নির্বাচন কমিশন৷ ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে৷ ৫ জনের বেশি এক সঙ্গে কেউ কোথাও যেতে পারবেন না৷ কোথাও কোনরওকম জটলা করা যাবে না৷ কোচবিহারে গণ্ডগোল করতে পারে এরকম ৪০৪ জনকে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ এর মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯৭ জনকে৷ দুই জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে৷ কাল ভোট শুরু হবে সকাল ৭টায়, চলবে সন্ধে ৬ টা পর্যন্ত৷
৫০ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ৩৬১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে৷ কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারে থাকছে ১২৩ কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ তাদের সহযোগিতা করবে সাড়ে চার হাজার রাজ্য পুলিশ৷ পূর্ব মেদিনীপুরে থাকছে ২৩৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ এই জেলায় সাড়ে সাত হাজার রাজ্য পুলিশ থাকছে৷ এছাড়াও বাড়তি নজরদারির থাকছে৷ এই জেলায় দুজন অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে৷
বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ ও কোচবিহারের নটি আসনে ভোটগ্রহন৷ যেহেতু এই দুটি জেলা অসম ও ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া, তাই কমিশনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে ভোটের দিন রাজ্য সীমান্ত এলাকায় নাকা চেকিং করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ অবশ্য অসামাজিক কাজকর্ম রুখতে কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সীমান্তের নাকা পয়েন্টে নজরদারি চালাতে শুরু করে দিয়েছে৷
শেষ দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ ৪ হাজার ১৯ জন৷ ২ জেলা মিলিয়ে ১৭০ জন প্রার্থী রয়েছেন৷ এর মধ্যে ১৮ জন মহিলা৷ সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহারের দিনহাটা মেখলিঞ্জ ও পাঁশকুড়াতে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ৯ জন করে প্রার্থী রয়েছেন৷ রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু সরকার এ কথা জানিয়েছেন৷ এখানে মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা ২৬টি৷ এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুরে শারীরিক ভাবে অক্ষম ও বয়স্ক ভোটারদের জন্য হ্যান্ডেল দেওয়া র্যাম্প করা হয়েছে৷ হুইলচেয়ার, পানীয় জল, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং খাবার জন্য ও আর এস রাখা হয়েছে৷ এর ওপর একটি তথ্যচিত্রও তৈরী করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশসক অন্তরা আচার্য৷ তাতে লেখা আমার গনতন্ত্র, আমার গর্ব৷ পাঁশকুড়া পশ্চিমে শারীরিক ভাবে অক্ষম ভোটার আছেন ১ হাজার ৬১২ জন৷ ময়নাতে ১ হাজার ৩৯৮, নন্দীগ্রামে আছেন ১ হাজার ২৩৯ জন, পটাশপুরে ১ হাজার ২৭৩, ভগবানপুরে ১ হাজার ৪২ জন৷ হুইলচেয়ারগুলো কিনে দিয়েছে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী৷ এছাড়া ব্রেইল পদ্ধতিও থাকছে দৃষ্টিহীন ভোটারদের জন্য৷
শেষ দফায় ভোটার জন্য বিভিন্ন বুথে পৌঁছে গেছে ইভি এম মেশিন৷ কোচবিহারে থাকছে ১৬৩টি ভিডিওগ্রাফি৷ পূর্ব মেদিনীপুরে ৩০৩টি৷ ডিজিটাল ক্যামেরা থাকছে কোচবিহারে ৯০টি, মাইক্রো অবজার্ভার ৩৫২ জন, পূর্ব্য মেদিনীপুরে ৫৩০ জন৷ ক্যামেরা লাগানো গাড়ি কোচবিহারে ১২টা পূর্ব মেদিনীপুরে ১৬টা৷ এই দুই জেলার ভোটকে কেন্দ্র করে আন্তঃরাজ্য সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে৷ ওড়িশা, আসম লাগোয়া সীমানাও সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও বহিরাগত ঢুকতে না পারে৷ একমাত্র ভোটার, চিত্র সাংবাদিক, সাংবাদিক, ভোটকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী এবং সেই কেন্দ্রে প্রার্থী এবং পোলিং এজেন্ট ছাড়া অন্য কেউ ঢুকতে পারবেন না৷
এদিকে, ভোটের ২৪ ঘন্টা আগে রামনগর বিধানসভার শঙ্করপুরের একটি বুথে বোমা উদ্ধার হয়৷ বুধবার সকালে শঙ্করপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (১৪২ নং বুথে) শৌচাগারের ধারে ব্যাগের মধ্যে ৪টি সুতলি বোমা উদ্ধার হয়৷ খবর পেয়ে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ পুলিশকর্মীরাই জলে ডুবিয়ে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন৷ ঘটনায় শাসকবিরোধী উভয় পক্ষই একেপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য বোমা মজুতের অভিযোগ তুলেছে৷
রামনগরের জোটপ্রার্থী তাপস সিনহা বলেন, শঙ্করপুর সিপিএমের সক্রিয় ঘাঁটি৷ তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে বুথের মধ্যে বোমা রেখেছে তৃণমূল৷ পাল্টা এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অখিল গিরি বলেছেন, শঙ্করপুরে সিপিএম এখন সঙ্কটে৷ তাই ভোট কব্জা করতে ওরাই বুথের মধ্যে বোমা মজুত করেছে৷ এদিকে অভিযোগপাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রশ্ণ উঠতে শুরু করেছে নিরাপত্তার বিষয়ে৷ ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও বুথের মধ্যে বোমা উদ্ধার হওয়ায় নির্বাচন কমিশন এবং বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ণ তুলছেন স্থানীয়রা৷
অন্যদিকে, ছিটমহলের ভোটাররা যে ভোট দিচ্ছেন, তা ক্যামেরাবন্দী করার নিদের্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ স্বাধীনতার পর এই প্রথম আগামীকাল ছিটমহলে ৯ হাজার ৭৭৬ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন৷ স্বভাবতই উচ্ছ্বাসের আমেজ ছিটমহলে৷ এই ভোটরদের মধ্যে রয়েছেন সবচেয়ে প্রবীণ আসগর আলি৷ তাঁর বয়স ১০৩ বছর৷ এই ছবি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সংগ্রহশালায় থাকবে৷ কারণ ঐতিহাসিক দিক দিয়ে এর গুরুত্ব অপরিসীম৷ এছাড়া রাজ্য নির্বাচন দপ্তর এই সাত দফা ভোটের তথ্য সংবলিত একটি বই প্রকাশ করবে, সেখানেও থাকবে বিভিন্ন দফায় ভোটের ও ছিটমহলের ভোটারদের ছবি৷
আগামীকালের ভোটে দিল্লির নির্বাচন কমিশন যেমন মিডিয়া ওয়াচ করবে, তেমনই রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের মিডিয়া ওয়াচ সেল খোলা হয়েছে৷ তার দায়িত্ব রয়েছেন উপনির্বাচনী ও আধিকারির অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্য্য৷ গত কয়েক মাস ধরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীলকুমার গুপ্তার নেতৃত্বে কমিশনের ফুল টিম আধিকারিক ও কর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন৷ কালকের ভোট শেষ হলে তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন৷