পুরী, ২৪ জুন (হি.স.) : ভক্ত সমাগম ছাড়াই পুরীতে শুরু হল জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা । করোনা আবহে বিধি মেনেই বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা। পাশাপাশি পুরীতে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। স্নান রীতি অনুযায়ী ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানো হবে জগন্নাথদেবকে ।
গত বছর থেকেই চলছে করোনা অতিমারীর প্রকোপ। সেই কারণে ২০২০-র মত ২০২১-এও ভক্ত সমাগম ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে ওডিশার শ্রেষ্ঠ উত্সব জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। রথযাত্রার আগে ২৪ জুন বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা। করোনা আবহে বিধি মেনেই বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা। প্রশাসনের নিয়ম মেনে মন্দিরের বাইরে এবার ভিড় করতে পারবেন না ভক্তরা। স্নানযাত্রার সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকছে মন্দিরের চারপাশের এলাকায়। করোনা সুরক্ষা দৃঢ় করার জন্য ছ’টি জোন তৈরি করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছেন ৫ জন অতিরিক্ত এসপি, ৩৫ প্লটন পুলিশ বাহিনী, ২৩ জন ডিএসপি, ৪১ জনের বেশি ইন্সপেক্টর ও প্রায় ১৫০ জন আধিকারিক। এছাড়াও জগন্নাথ মন্দিরের আশপাশে এবং প্রবেশপথে ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তবে শুধু ভক্ত না, কড়াকড়ি রয়েছে সেবায়েতদের নিয়েও। করোনা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়া থাকলে তবেই তাঁরা স্নানযাত্রায় অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি তাঁদের কোভিড রিপোর্টও নেগেটিভ থাকতে হবে।
প্রতিবছর স্নান পূর্ণিমায় প্রথমে জগন্নাথদেব তারপরে বলরাম শেষে সুভদ্রাকে পুষ্পাঞ্জলী দেন মন্দিরের সেবায়েতরা ।তারপর তাদের নিয়ে যা নিয়ে যাওয়া হয় স্নানবেদীতে সেখানে মঙ্গলারতি ও সূর্য পূজার পর তিন জনকে মহাস্নানের জন্য প্রস্তুত করা হয় ।পুরীর মন্দিরের দক্ষিনের দরজা রয়েছে কুয়ো । সেই কুয়ো থেকে ১০৮ ঘড়া জল তোলা হয় ।সেই জলে স্নান করেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে । স্নানের পর জগন্নাথ ও বলরামের হাতিবেশ বা গণেশবেশ হয়ে থাকে। স্বয়ং জগন্নাথদেব মহারাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাস্নানের পর তাঁর অঙ্গরাগবিহীন রূপ যেন কেউ না দেখেন। তাই স্নানযাত্রার পর থেকে ১৫ দিন পুরীর মন্দিরের দরজা সাধারণের জন্য বন্ধ থাকে।
শাস্ত্র অনুসারে জ্যৈষ্ঠমাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্বয়ম্ভ মনুর যজ্ঞের প্রভাবে জগন্নাথ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এই তিথিকে জগন্নাথদেবের জন্মদিন হিসেবে পালন করার নির্দেশ দেন স্বয়ং মনুই। সেই জন্মদিন উপলক্ষ্যেই এই বিশেষ স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে।



















