শুভঙ্কর দাস
পেরিয়ে গিয়েছে স্বাধীনতার সাত দশকেরও বেশি সময়।কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রশাসনের অবদান নিয়ে সন্দিহান চিকিৎসক মহল।আর কদিন পরেই ১৫ই আগস্ট।অন্যবারের তুলনায় এবারের ১৫ ই আগস্ট এর মাহাত্ম্য অনেক ভিন্ন।এর কারণ করোনা।দেশজুড়ে প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।এমন পরিসরে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আয়তন আরো বৃদ্ধি করা উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
সার্ভিসেস অফ ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস জানিয়েছেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সকলের জন্য স্বাস্থ্য। এর প্রতিফলন স্বাধীনতার পর প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কিছুটা দেখা গিয়েছিল।দিন যত গিয়েছে স্বাস্থ্যখাতে সরকারি ব্যয় বরাদ্দ কমতে শুরু করেছে।১৯৮১-৮২ পর্যন্ত কিছুটা হলেও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সেই স্বপ্নগুলিকে বাস্তবায়িত করার একটা চেষ্টা হয়েছিল।কিন্তু ১৯৮৩ সালে নতুন স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের মধ্যে দিয়ে বেসরকারিকরণের দিকে গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঠেলে দেওয়া হয়। ২০০২ সালে স্বাস্থ্য পরিষেবার বেসরকারিকরণ এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির রমরমার পথকে আরও সুগম করে তোলা হয়। ফলে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের নাগাল থেকে ক্রমশই বাইরে চলে যেতে শুরু করে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা। ১৯৭৮ সালে আলমাটা ডিক্লারেশনের ভারত সই করেছিল। সেখানে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে মাত্র এক শতাংশের কম খরচ করা হচ্ছে।
বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা: বিজ্ঞান বেরা জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদা মেনে স্বাস্থ্য খাতে এই মুহূর্তে ন্যূনতম জিডিপির ১০ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিত। হাসপাতাল তৈরীর ক্ষেত্রে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের মডেলের ফলে মুনাফা হচ্ছে বেসরকারি সংস্থাগুলির।খরচের নিরিখে সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এই সকল হাসপাতাল।বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যা পরিকাঠামো তাতে করে করোনা কারণে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। সরকার যে পরিমাণ অর্থের ঋণ পুঁজিপতিদের মুকুব করে দেয়। সেই পরিমাণ অর্থ দিয়ে একাধিক হাসপাতাল গড়ে তোলা যায়। নার্সেস ইউনিটির পার্বতী পাল জানিয়েছেন, যে কোন হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মী একান্তভাবে প্রয়োজন।তা না হলে পরিষেবা ব্যর্থ হতে বাধ্য। হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে প্রতি তিনজন রোগীর জন্য একজন নার্স প্রয়োজন।বর্তমানে সেই আনুপাতিক হারটা নেই।কখনো সেই হার থাকে ১০ জন রোগীর জন্য একজন নার্স।তা কখনও তা বেড়ে ২৫ জন রোগীর জন্য একজন নার্স হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটা ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে নার্সের প্রয়োজন। পাশাপাশি নার্সরা মানুষ। তাদের মনের কথাটাও বোঝা উচিত হাসপাতাল সুপারের। পরিকাঠামোহীন, জনবল কম প্রতিদিন অসম লড়াই লড়তে হচ্ছে নার্সদের।কোন বিপত্তি ঘটলেই দায় এসে পড়ছে তাদের ওপর। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রয়োজন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা করোনা যেন দেখিয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন নতুন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের। জনঘনত্বের যে কথা বলা হচ্ছে সেগুলো ভিত্তিহীন বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।কারণ চীন, কিউবা, স্পেন, ভিয়েতনাম সহ একাধিক দেশ স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণের কাছে নিয়ে যেতে পেরেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদের থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন চিকিৎসক সমাজ।



















