নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন৷৷ ত্রিপুরায় করোনা-য় সংক্রমিতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে৷ শুক্রবার আরও ৪৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এক ট্যুইট বার্তায় জানান, ১০২৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এদিন৷ তাতে ৪৮ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷ এদিকে, করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে রাজ্যে৷ তাই, জেলাস্তরে কোভিড কেয়ার সেন্টার স্থাপনে তোড়জোড় শুরু হয়েছে৷ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জেলা হাসপাতালগুলিতে কোভিড কেয়ার সেন্টার স্থাপনে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং মেডিকেল সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ বিশেষ করে বিশালগড় মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক-কেও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে৷
ত্রিপুরার স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ শুভাশিস দেববর্মা সিপাহীজলা, গোমতী, দক্ষিণ ত্রিপুরা, ধলাই, খোয়াই, উত্তর এবং ঊনকোটি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং ধর্মনগর, শান্তিরবাজার, কুলাই, কৈলাসহর, খোয়াই এবং উদয়পুর জেলা হাসপাতালের মেডিকেল সুপারদের সর্ব সুবিধাযুক্ত ১০০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড কেয়ার সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন৷ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শীগ্রই ওই ব্যবস্থা করার জন্য বলা হয়েছে৷ এ-ক্ষেত্রে কোভিড কেয়ার সেন্টার পরিচালনায় প্রশাসনিক ক্ষমতা মেডিকেল সুপারদের হাতে দেওয়া হয়েছে৷
এ-বিষয়ে স্বাস্থ্য দফতরের পদস্থ আধিকারিক বলেন, ত্রিপুরায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে৷ তাই, জেলাস্তরেই করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বন্দোবস্ত করা হচ্ছে৷ অবশ্য, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার সময়েই কেন্দ্রের নির্দেশে এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল৷ কিন্তু, ত্রিপুরায় প্রকোপ তেমন দেখা দেওয়ায়, জেলাস্তরে কোভিড কেয়ার সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা ছিল না৷ তবে, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে৷ তাই, নতুন করে জেলা হাসপাতালগুলিতে কোভিড কেয়ার সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করা হচ্ছে, বলেন তিনি৷
বর্তমানে ত্রিপুরায় ৬৪৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ৪৩ জন, সিপাহীজলা জেলায় ১৮১ জন, খোয়াই জেলায় ২৪ জন, গোমতী জেলায় ৮৫ জন, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ৫৮ জন, ধলাই জেলায় ১৯৫ জন, ঊনকোটি জেলায় ৪৯ জন এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ১২ জন করোনা-য় সংক্রমিত হয়েছেন৷করোনা সংক্রমিতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭৩ জন সুস্থ হয়েছেন, ৩ জন বর্তমানে ত্রিপুরার বাইরে রয়েছেন এবং ১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷
যদি করোনা আক্রান্তের পরপর দুইবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবেই হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে৷ আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা সাফ জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ৷ তাঁর কথায়, পূর্বের এসওপি মেনে ১০ দিন পর করোনা আক্রান্ত-কে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে না৷ ১৪ দিন থাকলেও ছুটি মিলবে না৷ করোনা আক্রান্ত-কে ছুটি দেওয়ার ক্ষেত্রে রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে হবে, ত্রিপুরা সরকার এখন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি৷
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে করোনা আক্রান্তদের ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ত্রিপুরায় ছুটি দেওয়া হত৷ অবশ্য, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক একান্তবাসে থাকতে হবে ওই শর্তে ছুটি দেওয়া হত৷ কিন্তু এখন ত্রিপুরা সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তাতে, পরপর দুইবার কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসা বাধ্যতামূলক করেছে৷ শুরুতে দুই করোনা আক্রান্তের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর ছুটি দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, মাঝে কেন্দ্রীয় সরকার এসওপি পরিবর্তন করায় করোনা আক্রান্তদের ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ বিএসএফ-র করোনা আক্রান্ত-রা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর প্রাতিষ্ঠানিক একান্তবাসে থাকার শর্তে তাদের ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু, ত্রিপুরা সরকার এখন অনুভব করছে, ওই পদ্ধতি মেনে করোনা আক্রান্তদের হাসপাতাল ছুটি দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে৷ তাই সম্ভবত সিদ্ধান্ত বদল করেছে৷



















