নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ১০ মে৷৷-দায়সারা মনোভাবে রাজ্যের প্রবেশদ্বার অর্থাৎ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চুড়াইবাড়ি সফর করে গেলেন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এস কে রাকেশ৷ আজ বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ আগরতলা থেকে রাজ্যের প্রবেশদ্বার চুড়াইবাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সরজমিনে আসেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এস কে রাকেশ৷ উনার সাথে ছিলেন উত্তর জেলার জেলাশাসক রেবেল হেমেন্দ্র কুমার, উত্তর জেলার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক৷
বর্তমানে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি হু হু করে বাড়ছে৷আর বহিরাজ্য থেকে পন্যবাহী লড়ি চালক,সহ চালক ও যাত্রীদের শরীরের করোনা পজেটিভ সংক্রমণ আছে কিনা তা সনাক্ত করতে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বিশেষ টিম বসানো হয়েছে চুড়াইবাড়ি সেল ট্যাক্স কমপ্লেক্সের ভিতরে৷ কিন্তু সেখানে ঢিলেমি থাকার কারনে যাত্রী ও চালকদের দীর্ঘ লাইন লেগে থাকে৷ অতিরিক্ত মুখ্য সচিব প্রথমে চুরাইবারি সেলটেক্স কমপ্লেক্সের ভেতরে করোনা ভাইরাস স্ক্যানিং সেন্টারের স্বাস্থ্য কর্মীদের সাথে কথা বলেন৷
তারপর ছুটে যান চুড়াইবাড়ি থানার সামনে৷ সেখানে রাজ্যে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়া লড়ি কিভাবে আসা-যাওয়া করছে তা নিয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করেন৷ সেখান থেকে ছুটে যান যাত্রী ও চালকদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখা খেরেংজুরি জহর নবোদয় বিদ্যালয়ে৷ সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এসকে রাকেশ৷ তারপর সেখান থেকে পানিসাগর উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন৷ কিন্তু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য লরি চালক ও যাত্রীদের সুবিধে-অসুবিধের কোন খোঁজ খবরই নেননি মুখ্য সচিব৷ পরিদর্শন করেননি বিপদজনক স্থানে অবস্থিত ১৮ কিমি ত্রিপুরা অসম সীমান্ত৷এককথায় দায়সারা মনোভাবে করোনা ভাইরাসের মহামারীতে বিপদজনক স্থান অর্থাৎ রাজ্যের প্রবেশদ্বার চুড়াইবাড়ি পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত মুখ্য সচিব৷ পন্যবাহী লড়ি চালকদের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে কোন কিছুর খোঁজ খবর নিলেননা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এস কে রাকেশ৷ খোঁজখবর নিলেন না যাত্রীদেরও৷ শনিবার মাঝরাত থেকে অসম সরকার ত্রিপুরা রাজ্যের নাগরিক অসমে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে৷
চালকদের অভিযোগ ২/৩ দিন থেকে কাঁচামাল থেকে শুরু করে ফল ও মাছের গাড়িগুলি দাঁড়ানো থাকায় সকল সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷ এমনকি চালকদের মধ্যে খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে৷যেহেতু রাজ্যের একমাত্র প্রবেশদ্বার চুড়াইবাড়ি সুতরাং এই প্রবেশদ্বারে করোনা মোকাবিলা করতে কতটুকু তৎপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে৷ বিশেষ করে আজ রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এসকে রাকেশ দায়সারা মনোভাবে চুড়াইবাড়ি পরিদর্শনের পর স্থানীয় জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের চাাকল ও যাত্রীদের মধ্যে তীব্র কৌতুহল দেখা দিয়েছে৷ এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোন প্রকার মন্তব্য করেননি অতিরিক্ত মুখ্য সচিব৷
সুতরাং ঝুঁকিপূর্ণ সান তথা রাজ্যের প্রবেশদ্বার পরিদর্শন করে উত্তর জেলার জেলা আকারিকদের কোন নিয়ম কানুন বা উন্নত পরিকাঠামোর নির্দেশ দিয়ে গেলেন কি না তা সম্পূর্ণ ধোঁয়াশার মধ্যে বিরাজ করছে৷মহামারী করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঘরে থাকা ও সামাজিক দূরত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন কিন্তু আজকের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এস কে রাকেশের চুরাইবাড়ি পরিদর্শন কালে আমজনতা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেও রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিক গন সামাজিক দূরত্বকে তোয়াক্কা করেননি৷এক কথায় ত্রিপুরার প্রবেশদ্বার চুড়াইবাড়ি কিন্তু বিপদজনক অবস্থানে রয়েছে৷ এখানে গাড়ি গুলিকে সেনিটাইজ করা হচ্ছে না৷ তা ত্রিপুরার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির বিষয়৷ রাজ্য সরকারকে সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৷ ত্রিপুরার প্রবেশদ্বার ও তার আশপাশ এলাকাকে সুরক্ষিত রাখলে ত্রিপুরার জন্য ঝুঁকি কম থাকবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা৷

