নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মে৷৷ বহিঃরাজ্য থেকে ত্রিপুরায় আগতদের সাথে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিজিউর অনুসরণ করা হচ্ছে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর কথায়, চোরাইবাড়িতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ করোনা হটস্পট থেকে ত্রিপুরায় আসলে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে৷ নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে৷
তিনি জানান, রাজ্যে গতকাল পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১১৫ জন৷ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩৬৫ জন৷ তাছাড়া, মোট ৪ হাজার ৯৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে ২ জনের পজিটিভ যাঁরা বর্তমানে সুস্থ৷ এছাড়া, বহিঃরাজ্যের এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে৷ তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷ বাকি সবগুলিই নেগেটিভ এসেছে, জানান তিনি৷
শিখামান্ত্রীর কথায়, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চোরাইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ৪০১ জন ত্রিপুরায় এসেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, চোরাইবাড়ি চেকপোস্ট দিয়ে যাঁরাই ত্রিপুরায় আসবেন তাঁদের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখার জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিজিউর অনুসরণ করা হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, ওই ৪০১ জনের মধ্যে হটস্পট এলাকা থেকে ১১ জন এসেছেনঊ তাঁদের মধ্যে ৬ জন লরি চালক৷ তাঁদেরকে চোরাইবাড়িতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ওই ১১ জন সহ মোট ৫১ জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে৷
মন্ত্রী রতনলাল বলেন, ওই ৪০১ জনের মধ্যে ২৮৭ জন হলেন লরির চালক ও তাঁর সহকারী৷ ২৫ জন রোগী যাঁরা বহিঃরাজ্যে চিকিৎসর জন্য গিয়েছিলেন৷ তাছাড়া, বহিঃরাজ্যে আটকেছিলেন ৮৯ জন৷ তাঁর কথায়, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিজিউর অনুসারে হটস্পট এলাকা থেকে এলে লরিচালক ও সহকারীদের একদিন ফেসিলিটি কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক৷ তাঁদের সকলের ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষা করাও বাধ্যতামূলক৷ সেক্ষেত্রে পজিটিভ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হবে৷ তবে, নেগেটিভ এলে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তিনি দেশের যে জেলায় যেতে চান, সেই জেলা প্রশাসনকে অবগত করা হবে৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নন হটস্পট’ এলাকা থেকে আসলে করোনা সংক্রমণের লক্ষণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ যাদের শরীরে লক্ষণ দেখা দেবে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হবে এবং নমুনা পরীক্ষা করা হবে৷ তবে, কোনও লক্ষণ দেখা না দিলে পরবর্তী প্রতিটি গাড়ির চালক বা সহকারীর পর্যায়ক্রমে নমুনা পরীক্ষা করা হবে এবং যে জেলায় যেতে চান যেতে দেওয়া হবে৷ তবে সকলের ক্ষেত্রেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে৷
তাঁর কথায়, উত্তর ত্রিপুরা ও ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন ছাত্রাবাসে বর্তমানে ৬৩৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এছাড়া তিনি জানান, ত্রিপুরার নাগরিক বহিঃরাজ্যে রয়েছেন, এমন ব্যক্তির মধ্যে ৬,০০০ জন আর্থিক সাহায্য চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন৷ ত্রিপুরা সরকার ৪,৩৪৭ জনকে সহায়তা দিয়েছে৷ খরচ হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা৷ আরও ১,০০০টি আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ৪,২৭০ জন আন্তঃরাজ্য যাতায়াতের পাস পাবার আবেদন জানিয়েছেন৷ তার মধ্যে রাজস্থানের কোটা থেকে ২৩০ জন, আগ্রা থেকে ৪৮ জন, চেন্নাই থেকে ৭৬ জনের পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আরও ৫৩ জনের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷

