নয়াদিল্লি, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু ‘গুড়িয়া’কে অপহরণ করে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির আদালত। শনিবার এই মামলার শুনানি ছিল দিল্লির কারকারডোমা আদালতে। ২০১৩ সালের নৃশংস ওই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত ঘটনাকে বীভৎসতার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে উল্লেখ করে | এই মামলায় দোষীদের সাজা ঘোষণা হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।
২০১৩ সালের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে। ছ’টা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল ছোট্ট শরীরে। দিল্লিতে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মাস চারেক বাদে ঘটেছিল গুড়িয়ার নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা । পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু ‘গুড়িয়া’কে অপহরণ করে নৃশংস নির্যাতন চালায় তার দুই প্রতিবেশী। শরীরের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তেলের শিশি, মোমবাতি। ধর্ষণের পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছোট্ট মেয়েটাকে ঘরে তালাবন্ধ করে পালিয়ে যায় দু’জন। ৪০ ঘণ্টা পরে গুড়িয়াকে যখন উদ্ধার করা হয়েছিল তার অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। এইমসে দীর্ঘ কয়েক মাসের চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয় সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন ছ’টা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল ছোট্ট শরীরটাতে। পূর্ব দিল্লির ওই ঘটনায় দুই অভিযুক্ত মনোজ কুমার ও প্রদীপকে শনিবার দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির কারকারডোমা আদালতে।
পূর্ব দিল্লিতে থাকত ওই নাবালিকার পরিবার। তাদের বাড়ির নীচের ঘর (বেসমেন্ট) থেকে প্রায় দু’দিন পর অচৈতন্য অবস্থায় গুড়িয়াকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথমে ওই নাবালিকাকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। কিন্তু সে সময় গা করেনি দিল্লি পুলিশ। ‘আপনারাই খুঁজে নিন’, বলে দায় ঝেড়েছিল পুলিশ।পরে ৪৮ ঘণ্টা বাদে অচৈতন্য গুড়িয়ার যৌনাঙ্গ থেকে মোম ও বোতল উদ্ধার করেছিল পুলিশে।
একটা ঘর থেকে গোঙানির শব্দ পেয়ে সন্দেহ হয় পড়শিদের। তাঁরা বিষয়টা গুড়িয়ার পরিবারকে জানিয়েছিল। খবর যায় পুলিশে। তারপরেই ঘরের তালা ভেঙে ওই নাবালিকাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনার একসপ্তাহের মধ্যেই দুই অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আইনে জটে প্রায় সাত বছর পর অপরাধী সাব্যস্ত হল মনোজ-প্রদীপ।
শনিবার এই মামলার শুনানি ছিল দিল্লির কারকারডোমা আদালতে। রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, “আমাদের সমাজে শিশুকন্যাদের দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়। পাঁচ বছরের মেয়ের উপর যে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়েছিল তার কোনও ক্ষমাই হয় না। ঘটনার বীভৎসতা সব সীমাকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল।”
দিল্লি-কাণ্ডের পর এই ঘটনাতেও নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে নেমেছিল। সে সময় অভিযুক্তদের ফাঁসির পক্ষে সওয়াল করে পথে নেমেছিল নাগরিক সমাজ। নাবালিকা, অপহরণ ও ধর্ষণের আইন আরও কড়া হোক। বিভিন্ন মহল থেকে এমন দাবিও উঠেছিল। সাত বছর আগেকার সেই মামলায় অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। নির্ভয়া গণধর্ষণকাণ্ডের চার দোষীকে ফাঁসির সাজা শোনানোর পরে এবার গুড়িয়া-ধর্ষণ কাণ্ডের দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির এক আদালত। সাজা ঘোষণা হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।


















