নয়াদিল্লি, ১৮ ডিসেম্বর (হি.স.): দিল্লি গণধর্ষণ মামলায় (২০১২) দোষীসাব্যস্ত অক্ষয় কুমার সিংয়ের সাজা পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট| মৃত্যুদণ্ডের সাজা পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ায়, দোষী অক্ষয়ের ফাঁসির সাজাই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট| সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগের রায় ঠিকই ছিল| এ নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তার কিছু নেই| এদিন অক্ষয়ের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে চায় দোষী অক্ষয় কুমার সিং, এ জন্য তাকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হোক| তখনই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, সাত দিন সময় দেওয়া যেতেই পারে, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানানোর জন্য এক সপ্তাহ সময় নির্ধারিতই| সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে পারেন আবেদনকারী|

শীর্ষ আদালতে দোষী অক্ষয় কুমার সিংয়ের সাজা পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ায় খুশি প্রকাশ করেছেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী| আশা দেবী জানিয়েছেন, ‘আমি অত্যন্ত খুশি|’ তবে, আশা দেবীর স্বামী এবং নির্ভয়ার বাবা বদ্রীনাথ সিং এখনও খুশি নন| বদ্রীনাথ সিং জানিয়েছেন, ‘আমরা এখনও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই| পাটিয়ালা হাউস কোর্ট মৃত্যুর পরোয়ানা জারি না করা পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব না|’ ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে গণধর্ষণের পর চলন্ত বাস থেকে দিল্লির রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়েছিল নির্ভয়াকে| সেই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে সাত বছর| দোষীদের দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নির্ভয়ার বাবা-মা|
বুধবার সকালে বিচারপতি অশোক ভূষণ, এ এস বোপান্না এবং আর ভানুমতীর বেঞ্চে নির্ভয়া মামলার শুনানি শুরু হলে অক্ষয়ের আইনজীবী এ পি সিং ফাঁসির তীব্র বিরোধিতা করেন| তিনি বলেন, ‘এ দেশ থেকে ফাঁসি তুলে নেওয়া উচিত| কারণ এতে অপরাধীকে মেরে ফেলা হলেও, অপরাধ শেষ করা যায় না| মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার এবং ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী| গান্ধীজীও বিরুদ্ধে ছিলেন|’ দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলে আসা তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি| এ পি সিং বলেন, ‘মৃত্যুর আগে নিজের প্রথম বয়ানে অভিযুক্তদের কারও নাম বলতে পারেননি নির্যাতিতা| অক্ষয়ের নাম পর্যন্ত মুখে আনেননি|’ এ পি সিং দাবি করেন, জাল রিপোর্ট তৈরি করে তার মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে| সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ‘মানবতা বিরোধী এই অপরাধের কোনও ক্ষমা হয় না|’ সওয়াল-জবাবের দু’পক্ষের আইনজীবীকে ২০ মিনিট করে সময় দেওয়া হয়েছিল| এরপর দুপুর একটায় রায় ঘোষণা করে সর্বোচ্চ আদালত| সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগের রায় ঠিকই ছিল| এ নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তার কিছু নেই| অর্থাত্ দোষী অক্ষয়ের ফাঁসির সাজাই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট|

