নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা ব্যবহারকারী মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে সোমবার একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল জাতীয় মহিলা কমিশন (এনসিডব্লিউ)। নির্দেশিকায় শারীরিক প্যানিক বাটন, গাড়ির নির্ধারিত রুট থেকে বিচ্যুতি হলে রিয়েল-টাইম সতর্কবার্তা, দীর্ঘক্ষণ বা সন্দেহজনকভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখার নজরদারি এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির জন্য ২৪ ঘণ্টার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর বলেন, বুকিংয়ের সময়, যাত্রাপথে এবং যাত্রা শেষ হওয়ার পর—প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই এই নির্দেশিকার লক্ষ্য। দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশিকাগুলি বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।
‘গাইডলাইনস ফর সেফটি অব উইমেন প্যাসেঞ্জার্স ইউজিং অ্যাপ-বেসড অ্যান্ড ডিজিটাল ট্রান্সপোর্ট মোবিলিটি সার্ভিসেস’-এ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, চালক ও গাড়ির পরিচয় যাচাই এবং অ্যাপে প্রদর্শিত চালক বা গাড়ির বিবরণের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল না থাকলে কোনও জরিমানা ছাড়াই যাত্রা বাতিলের সুবিধা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন সংস্থাগুলিকে নিয়মিত নিরাপত্তা প্রোটোকল ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি, প্রয়োজনে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ পাঠানো এবং নিয়মিত নিরাপত্তা ও নির্দেশিকা মেনে চলার রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাত্রার সময় চালক বা গাড়িতে অনুমোদনহীন পরিবর্তন হলে অ্যাপে তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। মোটর ভেহিকলস অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইনস, ২০২৫ অনুযায়ী যাত্রা পরিচালনাকারী চালকের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের মধ্যে ব্যবস্থা এবং চালকের স্পষ্ট ও উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি প্রদর্শনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহিলা চালকদের একটি যাচাইকৃত পুল তৈরির ওপরও জোর দিয়েছে এনসিডব্লিউ। পরিষেবা ও চালকের প্রাপ্যতা অনুযায়ী একা ভ্রমণকারী মহিলাদের অ্যাপের মাধ্যমে মহিলা চালক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
রাতের সময় নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রা শুরুর সময় চালকের ছবি যাচাই, চালক মাদকাসক্ত বা মাতাল কি না তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, যাত্রীর সম্মতি থাকলে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রার বিবরণ ভাগ করে নেওয়া, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের নজরদারি এবং যাত্রা শেষে নিরাপদ স্থানে নামিয়ে দেওয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চালকদের নিয়মিত নিরাপত্তা ও লিঙ্গ-সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের অপরাধমূলক অতীত যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের ওপরও জোর দিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। চালককে পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে এবং পরবর্তীতেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই যাচাই করার সুপারিশ করা হয়েছে।
























