খোয়াই, ৫ অক্টোবর: এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সোমবার খোয়াই জেলার তুলাশিখর আরডি ব্লকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে হস্তক্ষেপ করে। পরে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় মহিলা-সহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এডিসি এলাকার ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়। একই সময়ে খোয়াই জেলার তুলাশিখর আরডি ব্লকের অন্তর্গত বিভিন্ন ভিলেজ কাউন্সিলের ভোট গণনাও শুরু হয়। গণনাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
তুলাশিখর আরডি ব্লকের নির্ধারিত গণনাকেন্দ্র ছিল ভারত সরদার বিদ্যালয়। ভোট গণনা শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। গণনাকেন্দ্রে যাতে অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে না পারেন, সে বিষয়েও নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক রাখা হয়েছিল।
কিন্তু সকাল ৮টার পর কোনও এক সময় গণনাকেন্দ্রের বাইরে জড়ো হওয়া লোকজনকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে গণনাকেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয় বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির জেরে গণনাকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানরা হস্তক্ষেপ করেন। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাবাহিনীর পক্ষ থেকে লাঠিচার্জ করা হয়। আচমকা পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছুটোছুটি শুরু হয়। ঘটনায় মহিলা-সহ প্রায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধার করে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কারও আঘাত গুরুতর কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভিলেজ কাউন্সিলের ভোট গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ার সময় গণনাকেন্দ্রের বাইরে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিরাপত্তাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয় এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
তবে ঠিক কী কারণে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, কারা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন এবং লাঠিচার্জের আগে সেখানে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও বিভিন্ন দাবি ও পাল্টা দাবি রয়েছে।
এদিকে, রাজ্যের অন্যান্য গণনাকেন্দ্রেও সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় বেশ কয়েকটি বড় ব্লকে গণনা সম্পূর্ণ হতে সময় লাগতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তুলাশিখর আরডি ব্লকের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



















