বেঙ্গালুরু, ৩ অক্টোবর (আইএএনএস): ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত আপত্তি জানাতে ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কর্ণাটকের ডিরেক্টর জেনারেল ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি-আইজিপি) এম এ সালিমের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র। রাজ্য সরকারের চাপে এই মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিজয়েন্দ্রর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় কমিটির সদস্য বি এস ইয়েদুরাপ্পা, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক, বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা চালাভাদি নারায়ণস্বামী, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক সি এন অশ্বথ নারায়ণ, বিধায়ক বাইরাথি বাসবরাজ, এস আর বিশ্বনাথ, কে গোপালাইয়া, সাংসদ পি সি মোহন-সহ দলের অন্যান্য নেতারা।
ডিজিপি-আইজিপি-র সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বিজয়েন্দ্র বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম-৭ জমা দেওয়া নাগরিকদের জন্য একটি বৈধ আইনি ব্যবস্থা। ভোটার তালিকার কোনও নাম নিয়ে আপত্তি জানানোও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় কোনও অযোগ্য বা অনিয়মিত নাম রয়েছে বলে মনে হলে যে কোনও ব্যক্তি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন পরীক্ষা করে আপত্তি সঠিক হলে ব্যবস্থা নেয় এবং ভিত্তিহীন হলে তা খারিজ করে। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া।
বিজয়েন্দ্র অভিযোগ করেন, এই আইনি ব্যবস্থার ব্যবহার করার জন্য বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করে রাজ্য সরকার পুলিশ বিভাগকে ব্যবহার করছে।
তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পর পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করা হয় এবং এরপরই বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “আমরা নীরব থাকব না। আমাদের কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব এবং তাঁদের রক্ষার জন্য আমরা যে কোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে থানার সামনে বিক্ষোভ-সহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের এসআইটি গঠনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজয়েন্দ্র বলেন, ক্ষমতায় থাকলেই সরকার ইচ্ছেমতো পুলিশ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চেষ্টা করছেন এবং পুলিশ বিভাগের কাজে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা উচিত।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “ক্ষমতা কারও পারিবারিক সম্পত্তি নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।”
রাজ্য সরকার তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখলে বিজেপি রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশ বিভাগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান কর্ণাটক বিজেপি সভাপতি।
























