আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশের পর রাজ্যগুলির জন্য গ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্স ফর স্টেটস বা জিএপি তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ত্রিপুরা বছরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা হারিয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। তাঁর দাবি, এই তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজ্যের জন্য একটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ত্রিপুরাই নয়, দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলিও জিএপি তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্য ছোট। আমরা বছরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা পেতাম। প্রায় পাঁচ বছরে যার পরিমাণ দাঁড়াত ২০,০০০ কোটি টাকা। এই তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক বছরেই আমরা সেই ৪,০০০ কোটি টাকার সহায়তা হারিয়েছি।”
অর্থমন্ত্রী জানান, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন রাজ্যগুলিকে এই ঘাটতি পূরণের জন্য নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিল। তবে রাতারাতি রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, “আমরা শিল্প স্থাপনের চেষ্টা করছি এবং রাজ্যের আয়ের অন্যান্য উৎসও খুঁজে দেখা হচ্ছে। আমরা কর বাড়াইনি, কোথাও এক টাকাও অতিরিক্ত লেভি বাড়ানো হয়নি।”
রাজ্যের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে শিল্প স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছেও আর্থিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে রাজ্যের আর্থিক সমস্যাগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন।
এরপর জিএপি তহবিল বন্ধের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য রাজ্যগুলিকে অনুদান দেওয়ার একটি প্রকল্প চালু করা হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ওই প্রকল্পের আওতায় ত্রিপুরার জন্য ৩,৪৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে এই ৩,৪৫০ কোটি টাকাকে বছরে ৪,০০০ কোটি টাকার জিএপি সহায়তার সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অনুমোদিত অর্থের একটি অংশ রাজ্যের চলমান প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্যের যে নিজস্ব অংশের অর্থ দিতে হয়, তার কিছুটা এই অর্থ থেকে মেটানো সম্ভব হলে রাজ্যের নিজস্ব বাজেটের ওপর চাপ কমবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এভাবে রাজ্যের নিজস্ব অর্থের কিছুটা সাশ্রয় হলে ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রেও আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে। সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে।
৩,৪৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে এই ধরনের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে বলেও একটি সম্ভাব্য হিসাব তুলে ধরেন প্রণজিৎ সিংহ রায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এটি কোনও চূড়ান্ত হিসাব নয়। প্রকৃত আর্থিক সাশ্রয়ের পরিমাণ এর চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে।
























