পাটনা, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারে চলতি বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বুধবার রাজ্যে পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের নেতৃত্বাধীন দল বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিবরাজ।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শিবরাজ সিং চৌহান বৈশালী জেলার হাজিপুরের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা ট্রাক্টর ও নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। বন্যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ফসল, রাস্তা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শনের পর শিবরাজ সিং চৌহান জানান, বন্যার কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরও বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হবে।
বৈশালীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে ফসল ও রাস্তার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। অন্যান্য জেলাতেও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিহারকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের কীভাবে আরও সাহায্য করা যায়, তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফসল ও রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি ইতিমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন শেষ হওয়ার পর একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ শুরু করেছে। বিহারে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং অতিরিক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করতে আরও কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে আসবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, বিহারের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রধান নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে থাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫টি জেলার ৮৮টি ব্লকের ৫৭৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৪৯.৭৪ লক্ষ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে পাটনা, ভোজপুর, সারণ, বৈশালী, ভাগলপুর, মুজফ্ফরপুর, বক্সার, সমস্তিপুর, খাগাড়িয়া, বেগুসরাই, দ্বারভাঙা, আরারিয়া, পূর্ণিয়া, মধেপুরা এবং কাটিহার।
বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুজফ্ফরপুরের দুমারিয়া ঘাটে গণ্ডক নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। খাগাড়িয়ার বালতারা ও কুরসেলায় কোসি নদীর জলস্তরও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
পাটনার গান্ধী ঘাট ও হাতিদহ, পাশাপাশি ভাগলপুর ও কাহালগাঁওয়ে গঙ্গার জলও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। শ্রীপালপুরে পুনপুন নদী এবং বেনিবাদ ও সোনাখানে বাগমতী নদীর জলস্তরও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে।
বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে নদীর জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ত্রাণ, উদ্ধার এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজও চলছে।
—আইএএনএস



















