কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
চলতি বছরের গোড়ায় কলকাতায় একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেই মন্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে অব্রতনু সরকার নামে এক ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে হাইকোর্ট ওই মন্তব্য নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল। বুধবার সেই রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ে। রিপোর্টে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে কোনও ‘কগনিজেবল অফেন্স’ বা আমলযোগ্য অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়নি।
এরপর নতুন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভিথালরাও ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ পিআইএল-টি খারিজ করে দেয়।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পর ২ জুন কলকাতার কেন্দ্রীয় এসপ্ল্যানেড এলাকায় আয়োজিত একটি জনসভায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, তবে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর বক্তব্য বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে।
মমতা বলেছিলেন, বাংলাদেশের এক খুনিকে মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আসার পর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল, যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তাঁকে ফোন করে রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে এতদিন তিনি কোনও মন্তব্য করেননি এবং মুখ খোলেননি। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অত্যাচার’ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে তিনি সৌজন্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন, কারণ তাতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এবং তিনি তা চান না।
জনসভায় উপস্থিত অনেকেই তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশের দাবি জানান। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তিনি নাম প্রকাশ করতে অস্বীকার করেন।
এই মন্তব্যের পরই অব্রতনু সরকার আদালতে পিআইএল দায়ের করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আবেদন জানান। তবে ১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন করেছিলেন, যে কোনও ব্যক্তির বলা প্রতিটি বক্তব্য কি আদালতের বিবেচনা করা উচিত? পাশাপাশি, এই ধরনের ঘটনায় পিআইএল গ্রহণ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বুধবার রাজ্য সরকারের রিপোর্টে আমলযোগ্য অপরাধের কোনও উপাদান নেই বলে উল্লেখ করার পর মামলাটি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
_______



















