মহীশূর, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কর্নাটকের মহীশূর-কোডাগু লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ এবং রাজপরিবারের সদস্য যদুবীর কৃষ্ণদত্ত চামরাজা ওয়াদিয়ার বুধবার দাবি করেছেন, বিজেপি মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়। তি. নরসিপুরা শহরে দলের প্রতিবাদ কোনও সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ছিল না, বরং একটি মসজিদের সামনে গণেশ মিছিল নিয়ে এক পুলিশ ইন্সপেক্টরের মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
মহীশূরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় যদুবীর বলেন, মসজিদের সামনে দিয়ে গণেশ মিছিল যেতে দেওয়া হবে না—পুলিশ ইন্সপেক্টরের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদেই বিজেপি বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা তি. নরসিপুরা থানার পুলিশ ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। মুসলিমদের লক্ষ্য করে কোনও প্রতিবাদ করা হয়নি।”
বিজেপির এই প্রতিবাদকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবাদের সময় বিজেপি নেতাদের গণেশ মূর্তি হাতে জুতো-চটি পরে থাকার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে যদুবীর বলেন, বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা গণেশ মূর্তিগুলি প্রতিষ্ঠিত বা পূজার জন্য স্থাপন করা হয়নি। তাই ওই মূর্তি হাতে নিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করার সময় জুতো বা চটি পরা নিয়ে বিতর্কের কোনও কারণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারকে সমর্থন করার অভিযোগও তোলেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর প্রশ্ন, পুলিশ যদি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বা অবস্থানকে সমর্থন করে, তাহলে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত কী হবে?
শান্তি বৈঠকে পুলিশ ইন্সপেক্টরের ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন যদুবীর। তাঁর দাবি, ওই আধিকারিক বলেছিলেন, মসজিদের সামনে দিয়ে মিছিল গেলে তিনি মিছিলকারীদের ‘অনুতপ্ত’ করবেন এবং সেখানে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। শান্তি বৈঠকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে কোনও পুলিশ আধিকারিকের এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উপযুক্ত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
যদুবীর বলেন, সমাজের যে কোনও মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই বোঝা যাবে, শান্তি বৈঠকে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত কি না। তাঁর প্রশ্ন, এ ধরনের মন্তব্য করা হলে তার দায় কে নেবে?
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কর্নাটকের তি. নরসিপুরায় গণেশ মিছিলের উপর কথিত বিধিনিষেধের প্রতিবাদে বিজেপি কর্মসূচি পালন করে। যদিও জেলা পুলিশ জানিয়েছিল, গণেশ উৎসব বা মিছিলের নির্ধারিত পথে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
অভিযোগ, তি. নরসিপুরা থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর ধনঞ্জয় লিঙ্ক রোডে একটি মসজিদের সামনে গণেশ মিছিলের সময় বাজি না ফাটানোর জন্য আয়োজকদের সতর্ক করেছিলেন। বিজেপি ওই মন্তব্যকে মিছিলের উপর বিধিনিষেধ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং ইন্সপেক্টরের সাসপেনশনের দাবি জানায়।
বিক্ষোভে বিরোধী দলনেতা আর. অশোক, মহীশূর-কোডাগু সাংসদ যদুবীর কৃষ্ণদত্ত চামরাজা ওয়াদিয়ার, বিধায়ক টি. এস. শ্রীবৎস, প্রাক্তন সাংসদ প্রতাপ সিমহা-সহ বিজেপির একাধিক নেতা অংশ নেন। অশোক গণেশের মূর্তি হাতে নিয়ে লিঙ্ক রোডে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। পরে বিজেপি নেতাদের পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আইএএনএস



















