কৈলাসহর, ১৫ সেপ্টেম্বর: দারুন কুরআন ফুলবাড়িকান্দি বড়খলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে শারীরিকভাবে প্রহার করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি। পরবর্তীতে স্থানীয় সমাজ পঞ্চায়েত, নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার মাধ্যমে সামাজিকভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ার পর অভিযোগকারী ছাত্রের পিতা মোনাফ আলি তাঁর অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ আগস্ট। অভিযোগ, মাদ্রাসার এক শিক্ষক এক ছাত্রকে শারীরিকভাবে প্রহার করেন। ঘটনার পর ছাত্রের পিতা মোনাফ আলি কৈলাসহর থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় সমাজ পঞ্চায়েত, নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসে। বিশেষ করে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি সক্রিয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয় এবং ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পরবর্তীতে ছাত্রের পিতা মোনাফ আলির সঙ্গে আলোচনায় বসে মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি। আলোচনায় ছাত্রের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ছাত্রের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই সংক্রান্ত ব্যয় মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি বহন করবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ছাত্রের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসে সন্তুষ্ট হন মোনাফ আলি। এরপর তিনি পূর্বে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি কৈলাসহর থানায় দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোনাফ আলি বলেন, নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি ক্ষুব্ধ ও আবেগপ্রবণ হয়ে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে এলাকার সমাজ পঞ্চায়েত, নির্বাচিত পঞ্চায়েত এবং মাদ্রাসা পরিচালন কমিটি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
তিনি আরও জানান, তাঁর ছেলেকে পুনরায় ওই মাদ্রাসায় পাঠাবেন। বর্তমানে তাঁর আর কোনো অভিযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মোনাফ আলি বলেন, বিষয়টি যেহেতু আলোচনার মাধ্যমে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর আর কোনো অভিযোগ নেই, তাই ঘটনাটি নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনুরোধ করছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর মাদ্রাসা পরিচালন কমিটির হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ায় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
























