নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ব্রিকসের নেতৃত্ব এবং সফলভাবে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারতের প্রশংসা করেছেন উরুগুয়ের বিদেশমন্ত্রী মারিও লুবেতকিন। আইএএনএস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত সংবেদনশীল একাধিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
লুবেতকিন বলেন, ব্রিকস সম্মেলনের ফলাফল ছিল অসাধারণ সাফল্য। সম্মেলনের প্রস্তুতি পর্বে কী ফলাফল হবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক এবং ঐকমত্যপূর্ণ একটি ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষ জড়িত থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারত সরকার আলোচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উরুগুয়ের বিদেশমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথে, ভারত যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠে এসেছে তা স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর কথায়, শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে ফলাফলের দিকে তাকানো উচিত এবং ব্রিকসে ভারত কী অর্জন করেছে তা বোঝা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন লুবেতকিন। তিনি বলেন, ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্য যেমন ভারতের সাফল্য, তেমনই এটি প্রধানমন্ত্রী মোদিরও সাফল্য। সম্মেলনের দুই দিন ধরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে মোদির যোগাযোগ এবং বিভিন্ন নেতার তাঁর প্রতি আস্থা ও গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
লুবেতকিন বলেন, বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী যখন ঐকমত্যে পৌঁছানোর কথা ঘোষণা করেন, তখন সেটিই এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পর্কে হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কিছু বলে দেয়।
গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে আসা উরুগুয়ের বিদেশমন্ত্রী জানান, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত-উরুগুয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ভারত ও মার্কোসুরের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সফরকালে তিনি বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।
জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে লুবেতকিন বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার সময় এসেছে। তিনি ২০২৫ সালে রিও ডি জেনেইরোয় ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসির বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। বহু বছর পর দুই নেতার ওই প্রথম বৈঠকে ভারত-উরুগুয়ে সম্পর্ককে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
২০২৭ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের আগেই দুই দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন লুবেতকিন। তিনি বলেন, দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রকের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হল দুই দেশের নেতাদের মধ্যে গত বছর হওয়া আলোচনা ও চুক্তিগুলিকে বাস্তবায়িত করা। ভারত-উরুগুয়ে সম্পর্কের আগামী বছরের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
লুবেতকিনের মতে, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, অডিওভিজুয়াল সহযোগিতা, বলিউড, ক্রীড়া-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভারত ও মার্কোসুরের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করার বিষয়েও পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, উরুগুয়ে বর্তমানে মার্কোসুরের সভাপতিত্ব করছে এবং একইসঙ্গে সেলাকেরও সভাপতিত্ব করছে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৩৩টি দেশকে নিয়ে গঠিত সেলাকের মাধ্যমে ভারত ও ওই অঞ্চলের মধ্যে সম্পর্ক আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
চলতি মাসের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর ফের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সেলাকের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
লুবেতকিন বলেন, উরুগুয়ের কাছে এটি ‘ভারতের সময়’। তাঁর মতে, গত ১০ বা ২০ বছরের তুলনায় ভারত বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর ফলে একটি নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও সামাজিক ক্ষেত্র-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও উরুগুয়ে যদি বাস্তবসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উরুগুয়ের বিদেশমন্ত্রী আরও জানান, ভারত এই প্রথমবারের মতো উরুগুয়েতে নিজস্ব দূতাবাস চালু করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী উরুগুয়ে গিয়ে দূতাবাসটির উদ্বোধন করবেন এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতাগুলিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার কাজ আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
–আইএএনএস



















