আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের জনসেবাকে স্মরণ করে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। অভিযানের মূল ভাবনা, ‘জন সেবা হি প্রভু সেবা’। আজ বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গ্রাম ও শহরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িতেও ৬ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে। একইসঙ্গে রাজ্যজুড়ে আয়োজন করা হবে রক্তদান শিবির।
ড. মানিক সাহা বলেন, ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রথম সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সরকারের মূল দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে সেবা, সুশাসন এবং দরিদ্র মানুষের কল্যাণ।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সমাজের প্রান্তিক মানুষ এবং সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রশাসনিক ভাবনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে তিনি জনধন যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম-কিষান, পিএম বিশ্বকর্মা, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া, জিএসটি এবং সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর (ডিবিটি)-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি রেল, সড়ক, বিমানবন্দর ও বন্দরসহ পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাসব্যাপী এই অভিযানে মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আশীষ বার্তা প্রদীপ’, ‘মেরে স্বপ্নোঁ কা ভারত’, ‘নমঃ সেবা’, ‘আঙ্গন মিলন সেবা’, ‘সেবা কি কাহানি’, ‘সেবা জ্যোতি কলশ যাত্রা’, ‘সেবা: অমর যোগদান’, ‘সেবা সেতু অভিযান’, ‘সেবা কে রং, রাষ্ট্র কে সঙ্গ’, ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘সুশাসন সংবাদ’ এবং ভাদনগর ও বারাণসীকে কেন্দ্র করে ‘সেবা গ্রাম’ কর্মসূচি।
তবে চলমান ভিলেজ কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত কর্মসূচি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হলেও অন্যান্য কর্মসূচিগুলি ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
‘মেরে স্বপ্নোঁ কা ভারত’ কর্মসূচির আওতায় রাজ্যের ৪,৯৪৫টি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে ‘নমঃ সেবা: আনকহি কাহানিয়াঁ’ কর্মসূচিতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন শিল্পীর দল ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের পথনাটিকার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রভাব তুলে ধরবে।
‘আঙ্গন মিলন সেবা’ কর্মসূচির আওতায় ত্রিপুরার সমস্ত ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে উপভোক্তা ও অভিভাবকদের অবহিত করা হবে। পাশাপাশি কোনও সরকারি সুবিধা বা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া বাকি থাকলে তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হবে।
এছাড়া ‘সেবা জ্যোতি কলশ যাত্রা’-র মাধ্যমে প্রায় ১,১৯৩টি গ্রাম এবং ২১টি শহর ও নগরে সাইকেল ও মোটরবাইক র্যালির আয়োজন করা হবে। এতে যুবসমাজের অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। উন্নত ভারতের সংকল্পের প্রতীক হিসেবে একটি প্রতীকী কলশও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাসব্যাপী এই অভিযানের নোডাল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়কে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মসূচির তদারকি করবেন গার্ডিয়ান মন্ত্রী, বিধায়ক এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। পাশাপাশি মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, দফতরের সচিব এবং জেলাশাসকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে কর্মসূচির পরিকল্পনা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর বাস্তবায়নে তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরকে নোডাল দফতর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।



















