পাটনা, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বৈধ পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের নথি ছাড়াই ট্রেনে যাতায়াতের অভিযোগে বিহারের কাটিহার রেলস্টেশনে মায়ানমারের চার নাগরিককে আটক করেছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং তিনজন নাবালিকা রয়েছে বলে সোমবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
আরপিএফ সূত্রে জানা যায়, চারজনের কারও কাছেই বৈধ পাসপোর্ট, নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বা অন্য কোনও স্বীকৃত পরিচয়পত্র ছিল না। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কামাখ্যা-আনন্দ বিহার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস কাটিহার স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছলে আরপিএফ কর্মীরা ওই চারজনের গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে করেন।
আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিক্রম কুমার জানান, ট্রেনটি সেমাপুরের দিক থেকে আসার সময় ট্রেনিং সাব-ইন্সপেক্টর সারিকা কুমারীর নেতৃত্বে আরপিএফ পোস্ট ইস্টের একটি দল প্ল্যাটফর্মে মোতায়েন ছিল। দলে ছিলেন এএসআই ভি.কে. রাই, কনস্টেবল প্রবীণ এবং মহিলা কনস্টেবল এস.কে. মীনা। সন্দেহ হওয়ায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই করা হয়।
যাচাইয়ের পর তাদের কাছে বৈধ ভ্রমণ বা পরিচয়পত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে আরপিএফ জানতে পারে যে চারজনই মায়ানমারের নাগরিক। এরপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য তাদের সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জিআরপির কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছে আরপিএফ।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী জব্দ করার প্রক্রিয়া এবং মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে। আরপিএফের অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ নম্বর ধারা এবং পাসপোর্ট অ্যাক্টের ৩ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
মোহাম্মদ নূর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিন নাবালিকাকে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি) এবং জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের (জেজেবি) সামনে হাজির করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
চারজন কীভাবে কাটিহারে পৌঁছল, কোথায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যাত্রা করেছিল এবং তাদের যাতায়াতে অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে আরপিএফ ও জিআরপি। কাটিহারে আসার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা গন্তব্যও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।



















