নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত এখন নিজের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে জানার জন্য আর কারও অনুমতির অপেক্ষা করে না বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার তিনি বলেন, দেশের বৌদ্ধিক ইতিহাসকে নতুন করে পর্যালোচনা করতে আরও বিস্তৃত ও কঠোর গবেষণার প্রয়োজন।
নয়াদিল্লিতে এফআইএইচসিআর বার্ষিক ইতিহাস পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও ড. এসএল ভৈরাপ্পা মেমোরিয়াল লেকচার-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে সীতারামন বলেন, ভারত এখন তার শিলালিপি নতুন করে পর্যালোচনা করছে, সামুদ্রিক বাণিজ্যের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছে এবং গণিতের ক্ষেত্রে দেশের অবদানকে নতুন করে তুলে ধরছে। এই ইতিহাসকে একই সঙ্গে “আন্তরিক আনন্দ” এবং “নির্ভুলতা”-র সঙ্গে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির মূল ভিত্তি। তাঁর মতে, ডিকলোনাইজেশন বা ঔপনিবেশিকতার অবসান শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে অন্য একটি পাঠ্যবই বসানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
তিনি বলেন, এর অর্থ হতে হবে “আরও বিস্তৃত আর্কাইভ, আরও বেশি ভাষা, আরও কঠিন প্রশ্ন এবং আরও বৃহত্তর সংখ্যক গবেষককে সামনে নিয়ে আসা, যাঁদের বক্তব্য সত্যিই শোনা হবে।”
কন্নড় লেখক ও চিন্তাবিদ ড. এসএল ভৈরাপ্পার অবদানের কথা স্মরণ করে সীতারামন বলেন, তিনি কখনও বিপুল সংখ্যক অনুগামী তৈরি করার চেষ্টা করেননি। বরং মানুষের সত্যকে উপলব্ধি করার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও পরিশীলিত করার উপর জোর দিয়েছিলেন।
ভৈরাপ্পার দার্শনিক ভাবনা ‘সত্য এবং সৌন্দর্য’-এর প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারতের মতো প্রাচীন সভ্যতার ক্ষেত্রে বৌদ্ধিক অনুসন্ধানের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
সীতারামন এই প্রক্রিয়াকে ‘বৌদ্ধিক স্বরাজ’-এর একটি রূপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভারতীয়দের নিজেদের শাসন করার অধিকার দিয়েছে, আর বৌদ্ধিক স্বাধীনতা তাঁদের নিজেদের সম্পর্কে জানার অধিকার দেবে।
তিনি বলেন, ড. এসএল ভৈরাপ্পাকে নিয়ে ভারতের এই উদযাপন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর ডক্টরাল গবেষণাপত্রের শিরোনাম ‘সত্য মাত্তু সৌন্দর্য-সত্য এবং সৌন্দর্য’ তাঁর সমগ্র বৌদ্ধিক যাত্রাকেই যেন সংজ্ঞায়িত করেছিল বলে মন্তব্য করেন সীতারামন।
দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে এই বৌদ্ধিক চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রমাণ, গবেষণার কঠোরতা এবং বিবেককেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত কথা বলতে দিতে হবে। সম্মিলিতভাবে ভারতকে ‘বৌদ্ধিক স্বরাজের স্বর্ণযুগের’ দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।



















