আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তগুলি দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭২ ঘণ্টার ত্রিপুরা বনধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনের নেতৃত্ব। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
বৃহস্পতিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ এই বনধ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তারা দাবি করেন, ২০২৪ সালে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তার অনেকগুলিই এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি।
নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে এনএলএফটির সভাপতি প্রসেনজিৎ দেববর্মা জানান, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা রাজ্যজুড়ে বনধ কর্মসূচি পালন করা হবে। বনধ চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে জমায়েত, বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সতর্ক করে বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলাকালীন কোনও ধরনের বলপ্রয়োগ বা বাধা সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিতে পারে। আন্দোলনকারীদের উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও সাংবাদিক সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র বনধ পালন করাই তাদের লক্ষ্য নয়। ২০২৪ সালের চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ৭২ ঘণ্টার বনধকে কেন্দ্র করে রাজ্যের স্বাভাবিক জনজীবন ও পরিবহণ ব্যবস্থার উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বনধ মোকাবিলায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
























