কাঠালিয়া, ৩ সেপ্টেম্বর: ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যাত্রাপুর থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের নাম গৌতম ঘোষ (৪৪)। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর, কাঠালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দ্বাদশ শ্রেণির বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায়।
অভিযোগ, সন্ধ্যার পর গৌতম ঘোষ তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মাম্পি ঘোষের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। সেই সময় মাম্পির পাশে থাকা একটি ছোট শিশুর চিৎকারে বিষয়টি আশপাশের মানুষের নজরে আসে। শিশুটির চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজন এগিয়ে আসায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কথিতভাবে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
এরপরই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হয়ে যান। অভিযুক্তকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে অভিযুক্ত মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে যাত্রাপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর বিজয় চক্রবর্তীসহ পুলিশ কর্মী এবং টিএসআর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ অভিযুক্ত গৌতম ঘোষকে রাতেই থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাম্পি ঘোষ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই কাঠালিয়া এলাকার স্কুলপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত গৌতম ঘোষের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা থানার নজরে এসেছে। কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকাতেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বলে জানান যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থ নাথ ভৌমিক।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার বিষয়ে জানতে যাত্রাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি পার্থ নাথ ভৌমিক জানান, ঘটনাটি সত্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ অভিযুক্ত গৌতম ঘোষকে সোনামুড়া আদালতে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।



















