নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাঞ্জাবের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর আওতায় তৈরি খসড়া ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ তুললেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। আম আদমি পার্টি (আপ) পরিচালিত পাঞ্জাব সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভোটার রেকর্ডে এই পরিবর্তন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা চাড্ডা।
২০২২ সালে পাঞ্জাব থেকে আপের রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়া চাড্ডা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আরও ছয় আপ সাংসদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত বিধানের আওতায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
‘এক্স’-এ এক পোস্টে চাড্ডা বলেন, “পাঞ্জাবের আপ সরকার এখন প্রতিহিংসার রাজনীতিকে খসড়া ভোটার তালিকা পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। আমি পাঞ্জাব থেকে বর্তমান রাজ্যসভার সাংসদ এবং আমার ভোটার আইডি মোহালিতে নথিভুক্ত। তা সত্ত্বেও খসড়া ভোটার তালিকায় আমার নাম ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।”
তবে চাড্ডা নিজেই উল্লেখ করেন যে এটি এখনও খসড়া ভোটার তালিকা, চূড়ান্ত তালিকা নয়। চলমান ‘দাবি ও আপত্তি’ পর্বে নাম সংশোধনের সুযোগ রয়েছে এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে বলেও জানান তিনি। এসআইআর নির্দেশিকা অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যেই প্রতিকারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে দাবি করেন।
চাড্ডার অভিযোগ, তাঁর নাম ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনাটি নিছক কোনও করণিক ভুল নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদাহরণ। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন স্তরে যুক্ত আধিকারিকরা পাঞ্জাব সরকারের অধীনস্থ হওয়ায় তাঁদের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও)—এসআইআর প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে যুক্ত আধিকারিকরা সাধারণত রাজ্য সরকারের কর্মী। এমনকি পাঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও পাঞ্জাব ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক বলে দাবি করেন তিনি।
চাড্ডার অভিযোগ, নির্বাচনী দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাঁদের বদলি, পদায়ন ও কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে আপ সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কার্যকর করছে বলে তিনি দাবি করেন।
আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য সাংসদরাও পাঞ্জাব সরকারের নিশানায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন চাড্ডা। তাঁর দাবি, দল ছাড়ার পর আপ নেতৃত্ব তাঁদের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করেছে।
এসআইআর-এর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত নির্দেশিকার ৪(ডি) অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেন চাড্ডা। তাঁর দাবি, এই বিধানে বিচারবিভাগের সদস্য, জনপ্রতিনিধি, ঘোষিত পদাধিকারী এবং শিল্প, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও জনসেবার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামের জন্য একটি ‘সুরক্ষিত তালিকা’র ব্যবস্থা রয়েছে।
চাড্ডার দাবি, তিনি পাঞ্জাবের বর্তমান সাংসদ হওয়ায় কোনও কারণে তাঁর নাম চিহ্নিত হলেও ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চাড্ডা বলেন, “আপ পাঞ্জাব সরকার চালাতে পারে, কিন্তু পাঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
























