আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই ২০৪.৪৫ কিলোমিটার রাস্তা ডাবল লেনে উন্নীত করা হয়েছে। বাকি রাজ্য সড়কগুলিও পর্যায়ক্রমে ডাবল লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জমি ও অর্থের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে এই কাজের বাস্তবায়ন। সোমবার বিধানসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহা।
বিজেপি বিধায়ক তফাজ্জল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের অবশিষ্ট স্টেট হাইওয়েগুলিকে নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পূর্ণ ডাবল লেনে উন্নীত করা। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও আর্থিক সংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
তফাজ্জল হোসেন বিশ্রামগঞ্জ-মেলাঘর-সোনামুড়া-বিলোনিয়া সড়কের বিকল্প রুটের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, বিশালগড়, বক্সনগর ও সোনামুড়া হয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র উপকৃত হবে। পাশাপাশি গোমতী নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমবে এবং মেলাঘর থেকে সোনামুড়ার মধ্যবর্তী এলাকাগুলিকে ভবিষ্যতের বন্যাজনিত সমস্যা থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশালগড়, বক্সনগর এবং আমতলী-সাবরুম রুটকে পূর্ণাঙ্গ ডাবল লেন হিসেবে উন্নীত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এর জন্য অর্থের সংস্থান প্রয়োজন। রাজ্যের বেশ কিছু সড়কে বর্তমানে সিঙ্গল, ইন্টারমিডিয়েট এবং ডাবল লেন মিলিয়ে বিভিন্ন অংশ রয়েছে। নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান অনুযায়ী সেগুলি পর্যায়ক্রমে উন্নীত করা হবে।
এদিকে সিপিআই(এম) বিধায়ক দীপঙ্কর সেন রাজ্যের বিদ্যমান ফ্লাইওভার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি উদয়পুর, তেলিয়ামুড়া এবং বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো যোগাযোগের পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান। একইসঙ্গে শান্তিরবাজার-বিলোনিয়া সংযোগ সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও জানতে চান তিনি।
এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিমানবন্দর থেকে আমতলী পর্যন্ত বর্তমান ফ্লাইওভার সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে পূর্ত দফতরের নেই। পরিবর্তে ফায়ার ব্রিগেড চৌমুহনী থেকে সিএডি চৌমুহনী, শঙ্কর চৌমুহনী ও দুর্গা চৌমুহনী হয়ে কাটারতল পর্যন্ত এবং সেখান থেকে রাধানগর বাসস্ট্যান্ড ও বাত্তলার দিকে সংযোগসহ প্রায় ৩.৯৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন ডাবল লেন ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত ফ্লাইওভারের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, লে-আউট পরিকল্পনা, প্রাক্কলন এবং জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অর্থ দফতরের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া আইজিএম চৌমুহনী থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত প্রায় ২.৯০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভারের আগের প্রস্তাবের কথাও বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৯৩.৩৩ কোটি টাকা। তবে বিদ্যমান ভবনগুলির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ওই পরিকল্পনায় সমস্যা দেখা দেয়। ফলে বিকল্প রুট নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য আগে ৬৫ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তিপরা মথার বিধায়ক সঞ্জয় ত্রিপুরা করবুক-শান্তিরবাজার এবং তীর্থমুখ-গণ্ডাছড়া শর্টকাট রুট ডাবল লেনে উন্নীত করার দাবি জানান। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিরবাজার থেকে এনএইচ-২০৮ পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এর কাছে অর্থায়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও বিধায়করা আমবাসা-গণ্ডাছড়া, গণ্ডাছড়া-আমরপুর হয়ে তালছড়া এবং চম্পকনগর-উদয়পুর হয়ে জম্পুইজলা সড়কগুলির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধুমাত্র দাবি উঠলেই কোনো রাস্তা ডাবল লেনে উন্নীত করা যায় না। রাস্তা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত বিষয় এবং যানবাহনের চাপ বিবেচনা করতে হয়। ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পিসিইউ-র ট্রাফিক ভলিউমের ভিত্তিতে সিঙ্গল, ইন্টারমিডিয়েট এবং ডাবল লেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, যানবাহনের চাপ, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা, জমির প্রাপ্যতা এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়গুলি বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা ও ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
























