কলকাতা, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। মূর্তিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে দলটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে কংগ্রেস।
জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেহরুর মূর্তি ভেঙে তা স্কুলের পাশের জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূর্তিটি যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে কংগ্রেসের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, কংগ্রেসেরই একটি অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে গোপনে যুক্ত হয়েছে এবং তাদেরই কেউ নেহরুর মূর্তি সরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ধ্যানকেন্দ্র রয়েছে। ওই কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জওহরলাল নেহরুর একটি বড় মূর্তি ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, শুক্রবার রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা প্রয়োজন হওয়ায় ক্রেন দিয়ে মূর্তিটি তুলে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে ‘অপমান’ করা হল কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, নেহরুর মূর্তি ক্রেন দিয়ে উপড়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং সেই অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই অপমান কংগ্রেস মেনে নেবে না। পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না হলে কংগ্রেস বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, কংগ্রেসের মধ্যে দুটি গোষ্ঠী রয়েছে এবং একটি গোষ্ঠী গোপনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের লোকেরাই নেহরুর মূর্তি সরিয়েছে এবং এখন বিজেপিকে দায়ী করার চেষ্টা চলছে।
বিধায়ক আরও দাবি করেন, অতীতে আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এডিডিএ) উদ্যোগে এভিএল কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি ইউনিয়ন অফিস ভেঙে দেওয়া হলেও তাঁর হস্তক্ষেপে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মূর্তি রক্ষা পেয়েছিল। নেহরুর মূর্তি ভাঙার ঘটনায়ও বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলে তিনি পুনরায় দাবি করেন।
চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ফলে নেহরুর মূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
—আইএএনএস



















