ইম্ফল, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা ক্যাডারসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর জেলায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে রবিবার আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মণিপুর পুলিশ, অসম রাইফেলস এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, থৌবাল ও কাকচিং জেলা থেকে সাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি), ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (ইউএনএলএফ), পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র রাজনৈতিক শাখা রেভলিউশনারি পিপলস ফ্রন্ট (আরপিএফ) এবং কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল)-এর সদস্যরা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃত জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের উপর হামলা, অপহরণ, জোর করে অর্থ আদায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠনে যুবকদের নিয়োগের মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
ধৃত সাতজনের মধ্যে থৌবাল জেলায় মণিপুর পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল কেসিপি (পিপলস ওয়ার গ্রুপ)-এর এক সক্রিয় মহিলা ক্যাডারকে গ্রেফতার করে। তাঁর নাম লাইশ্রাম আবেম দেবী (৩৭)।
অন্যদিকে, বিষ্ণুপুর জেলায় যৌথ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও ম্যাগাজিন, একটি .৩২ পিস্তল ও ম্যাগাজিন, একটি দেশি তৈরি একে রাইফেল ও ম্যাগাজিন, একটি দেশি তৈরি এমপি-৯ ও ম্যাগাজিন, একটি দেশি তৈরি এসবিবিএল বন্দুক এবং একটি দেশি তৈরি .২২ রাইফেল ও ম্যাগাজিন। এছাড়া দুটি ৩৬ হ্যান্ড গ্রেনেড, দুটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), বিভিন্ন ক্যালিবারের বিপুল পরিমাণ গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।
এদিকে, মণিপুর পুলিশ নিয়মিত তল্লাশি ও যানবাহন পরীক্ষার সময় সেরিকালচার ট্রেনিং সেন্টার এলাকায় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫৩ গ্রাম হেরোইন ভর্তি পাঁচটি সাবানের কৌটো উদ্ধার করা হয়। ধৃতদের নাম আমির খান (৩৪) এবং এমডি বুংগো (৩৩)। অভিযানে ব্যবহৃত একটি দুই-চাকার গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মণিপুরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) এবং মণিপুর পুলিশের যৌথ দল রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর, মিশ্র জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি অভিযান এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উপত্যকা ও পার্বত্য জেলাগুলিতে মোট ১১১টি নাকা ও চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জঙ্গি, সমাজবিরোধী এবং সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭) দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সশস্ত্র নিরাপত্তা পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলিতে কনভয় সুরক্ষা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
—আইএএনএস
























