আমরেলি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): পদ্ম পুরস্কার কোনও পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের জন্য নয়, বরং নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার আমরেলি জেলার দুধালায় ‘গুজরাট গৌরব সরোবর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সমাজসেবী সাবজিভাই ধোলাকিয়ার জল সংরক্ষণে অবদানেরও প্রশংসা করেন।
ধোলাকিয়া পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর জানিয়েছিলেন যে, তিনি এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করেননি। সেই প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, ২০৮টি জলাশয় নির্মাণের মাধ্যমে জল সংরক্ষণে এত বড় কাজ করার পরও যদি কাউকে পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে হয়, তাহলে সরকারের সেই কাজ নজরে পড়েনি—এমনটাই বোঝাবে।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২ সালে সমাজসেবার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সাবজি ধোলাকিয়াকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০২২ সালের মার্চে রাষ্ট্রপতি ভবনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ধোলাকিয়া সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য পরিচিত।
শাহ বলেন, “পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং ভারতরত্ন—এই পুরস্কারগুলি কোনও পরিবারের জন্য নয়, পরিচিত বা আত্মীয়দের জন্যও নয়। যাঁরা কোনও প্রশংসার প্রত্যাশা না করে ‘ভারতমাতা’র মানুষ ও দরিদ্রদের জন্য সারা জীবন উৎসর্গ করেন, এই পুরস্কার তাঁদের জন্য।”
জল সংরক্ষণে ধোলাকিয়ার দীর্ঘদিনের কাজের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, জীবদ্দশায় ২০৮টি জলাশয় নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর উদ্যোগ শুধু নির্দিষ্ট প্রকল্পগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সৌরাষ্ট্রে জল সংরক্ষণ নিয়ে বৃহত্তর জনসচেতনতা তৈরিতেও তা ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ গুজরাটে ধোলাকিয়া পরিবারের ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। রাজ্যসভার সাংসদ গোবিন্দ ধোলাকিয়ার সঙ্গে তাঁর আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি জানান, ওই ফাউন্ডেশন দক্ষিণ গুজরাটের বিভিন্ন গ্রামে মন্দির নির্মাণ, সৎসঙ্গের আয়োজন এবং স্কুল পরিচালনার মতো উদ্যোগ নিয়েছে।
শাহ বলেন, তিনি এই উদ্যোগ ২৫০টি গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে ১,১০০টি গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে হনুমান মন্দির নির্মাণ, শনিবার সুন্দরকাণ্ড পাঠের আয়োজন এবং দক্ষিণ গুজরাটে স্কুলগুলিকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভালো ফল করা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাহ বলেন, আদিবাসী পরিবারের ও গ্রামের শিশুদের সংস্কৃত শ্লোক এবং দুর্গাস্তব আবৃত্তি করতে দেখে তিনি বিশেষভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
ধোলাকিয়া পরিবারের দানশীলতার প্রসঙ্গ তুলে শাহ বলেন, মানুষের উপার্জিত সম্পদ অন্যদের কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত। তাঁর মতে, ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় পাওয়া সম্পদ সমাজের মানুষের উপকারে ব্যবহার করলেই প্রকৃত অর্থে লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।
ধোলাকিয়া ও তাঁর দলের সমাজকল্যাণমূলক কাজের প্রশংসা করে শাহ তাঁদের অভিনন্দন জানান। সৌরাষ্ট্র ও গুজরাটের অন্যান্য এলাকাতেও এই ধরনের উদ্যোগ জল সংরক্ষণের কাজে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
—আইএএনএস
























