নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরে একদল মুসলিম মহিলা বিক্ষোভ দেখানোর পর লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’ ফের প্রকাশ্যে এসেছে এবং মুসলিম মহিলারাই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং সাংবাদিকদের বলেন, রাহুল গান্ধীর ‘মুখোশ’ একাধিকবার খুলে গিয়েছে এবং এবার মুসলিম মহিলারাও তাঁর রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করেন।
মুসলিম মহিলাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গিরিরাজ। তিনি শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ করেন, মুসলিম মহিলাদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান বরাবরই প্রশ্নের মুখে থেকেছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র গুরু প্রকাশও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন। রাহুলের পিতৃতন্ত্র নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কংগ্রেসের মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে দলের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি হরিয়ানার কংগ্রেস নেত্রী কুমারী শৈলজার প্রসঙ্গ তুলে অভিযোগ করেন, দলিত মহিলা হিসেবে তিনি রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে চাইলে তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপি নেত্রী মেনকা গান্ধীকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলার অভিযোগও করেন গুরু প্রকাশ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দলিতের মেয়ে কি মেয়ে নয়? মুসলিমের মেয়ে কি মেয়ে নয়?” তাঁর দাবি, মহিলাদের নিয়ে মন্তব্য করার আগে কংগ্রেসের নিজেদের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকানো উচিত।
উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী দীনেশ প্রতাপ সিংও রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার কোনও সুযোগ রাহুল গান্ধী ছাড়েন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এবং বিশেষ করে মুসলিম মহিলারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন।
তিনি বলেন, ভারতীয় মুসলিমদের বিজেপির ভোটার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে চিহ্নিত করা হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুসলিম মহিলাদের মর্যাদা ও সম্মানের কথা মাথায় রেখে ‘তিন তালাক’ প্রথা নিষিদ্ধ করেছেন।
এদিকে বুধবার একদল মুসলিম মহিলা কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের এক জন আইএএনএসকে বলেন, তাঁরা রাহুল গান্ধীর কাছে মুসলিম মহিলাদের সমান সম্মান ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
ওই মহিলা বলেন, কর্ণাটকে কংগ্রেসের সরকার থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোনও মহিলা মন্ত্রী নেই। তাঁদের দাবি, মুসলিম মহিলারাও ভারতের সমান নাগরিক এবং তাঁদেরও রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা দিতে হবে। ‘তিন তালাক’-এর প্রসঙ্গ ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করে মহিলাদের, বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের আরও বেশি সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
—আইএএনএস



















