কলকাতা, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার জেরে পশ্চিমবঙ্গের ৩৬ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। নিখোঁজদের সম্পূর্ণ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে, কলকাতা ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, হুগলির তারকেশ্বর এবং দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির বাসিন্দারাও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।
বুধবার রাত থেকেই নেপালের বন্যায় পশ্চিমবঙ্গের কতজন নিখোঁজ বা আটকে পড়েছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে পরস্পরবিরোধী সংখ্যা সামনে আসছিল। পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা যাচাই ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, নেপালের কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য সরকার সক্রিয়ভাবে সমন্বয় রেখে চলেছে। নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ের পাশাপাশি আটকে পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে, যাতে দ্রুত উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
এ জন্য কলকাতার ভবানী ভবনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সদর দফতরে পৃথক কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। নিখোঁজ বা আটকে পড়া রাজ্যের বাসিন্দাদের বিষয়ে তথ্য পেতে দুটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে নেপালের বন্যায় পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজের সংখ্যা ৩৬ জন।
জানা গিয়েছে, নিখোঁজ ৩৬ জনের অধিকাংশই রাজ্য থেকে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সদস্য। কলকাতাভিত্তিক একটি ট্যুর অপারেটিং সংস্থার মাধ্যমে ওই সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। নিখোঁজদের মধ্যে ওই পর্যটন সংস্থার দুই কর্মীও রয়েছেন।
‘চলো যাই’ নামে ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা দিব্যজ্যোতি বসু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার থেকে তাঁদের কলকাতার দফতর ওই দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
নিখোঁজ পর্যটকদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই তাঁদের স্বজনদের বিষয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহের জন্য কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
—আইএএনএস



















