নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): জাপান সফরে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ, শক্তিশালী শিল্প অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, তাঁর এই সফর ভারত-জাপানের বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় নতুন গতি দিয়েছে।
টোকিও, নাগোয়া ও ওসাকায় একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে গোয়েল তাঁর সরকারি জাপান সফর শেষ করেছেন। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করা এবং উদীয়মান ও কৌশলগত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
সফরকালে গোয়েল জাপান সরকারের শীর্ষ আধিকারিক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৩০টিরও বেশি বড় জাপানি সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করা, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরির বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।
ভারতে দীর্ঘমেয়াদি জাপানি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ছিল সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গোয়েল এমইউএফজি, মিজুহো, নোমুরা, নিপ্পন লাইফ, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অফ জাপান এবং মরগান স্ট্যানলি এমইউএফজি সিকিউরিটিজ-সহ একাধিক শীর্ষ জাপানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ভারতের পরিকাঠামো, উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং আর্থিক ক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান চাহিদায় আরও বেশি পুঁজি প্রবাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়াও গোয়েল বিভিন্ন ক্ষেত্রভিত্তিক রাউন্ডটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে জাপানি ও ভারতীয় সংস্থাগুলি ভারতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের সরবরাহকারী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের নির্দিষ্ট সুযোগ চিহ্নিত করার বিষয়ে আলোচনা করে।
সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রেও ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি জানান, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। এই ক্ষেত্রে চিপ ডিজাইন, সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ফ্যাব্রিকেশন, এটিএমপি/ওএসএটি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই ছয়টি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে সরকারের কৌশল তুলে ধরেন তিনি।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের পাশাপাশি জেট্রো, জেবিআইসি এবং জাইকা-র শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং ভারতের উন্নয়নে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বেশি অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়।
নাগোয়ায় ‘ইন্ডিয়া-জাপান নেক্সট জেনারেশন ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ রোডশোতেও বক্তব্য রাখেন গোয়েল। চুকেরেন ও অন্যান্য শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে চুবু অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি জাপানি সংস্থা অংশ নেয়। অটোমোবাইল, মহাকাশ, মেশিন টুলস, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, অটো কম্পোনেন্ট এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
সরকারের মতে, গোয়েলের এই সফর ভারতের উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।
_______



















