আগরতলা, ২৭ আগস্ট: গত তিন বছরে রাজ্যের বিভিন্ন বন জেলায় মোট ১০০৮.২৮২ হেক্টর বনভূমি অবৈধভাবে দখল হয়েছে। বিধানসভায় পর্যটন ও বন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলমুক্ত বনভূমি পুনরুদ্ধারেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বনদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধলাই বন জেলায় ৫৫৪ হেক্টর, উত্তর বন জেলায় ৯২.৬ হেক্টর, সিপাহীজলা বন জেলায় ১৩৮.৬৬২ হেক্টর, পশ্চিম বন জেলায় ৩৬২.৭১২ হেক্টর, খোয়াই বন জেলায় ৪০১.৭২ হেক্টর এবং দক্ষিণ বন জেলায় ১০০৮.২৮২ হেক্টর বনভূমি অবৈধ দখলের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রদত্ত পরিসংখ্যানে জেলাভিত্তিক মোট হিসাবের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকায় সরকারি নথির মূল টেবিল অনুযায়ী সংখ্যাগুলি যাচাই করা প্রয়োজন।
বনভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ দখলের খবর পাওয়া মাত্র বন আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী দখলদারদের শোকজ নোটিশ ও উচ্ছেদ আদেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দখলদারদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বেচ্ছায় জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিপাহীজলা বন জেলার আওতাধীন এলাকায় অবৈধ চাষাবাদ ও দখল রুখতে ৩৭টি মামলা দায়ের, ২৮টি উচ্ছেদ নোটিশ এবং ৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩টি অপরাধ প্রতিবেদন দাখিল এবং উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে ২ হেক্টর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
খোয়াই বন জেলায় ৩৩২টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে ৭৮টির শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ বন জেলায় ২১৬টি উচ্ছেদ নোটিশ ও ২১৬টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গোমতী বন জেলায় ৫টি মামলা, ২১০টি উচ্ছেদ নোটিশ এবং ২১০টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গোমতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যেও ৩৪টি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বনভূমিতে নতুন করে দখল রোধ ও বনাঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বনদপ্তর। বন সুরক্ষায় এফপিইউ -কে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় যানবাহন, কম্পিউটার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের পাশাপাশি নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।























