কলকাতা, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): রাজ্যের অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই নতুন ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে বৃহস্পতিবার জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনা এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
কলকাতার উত্তর প্রান্তে নিউ টাউনে একটি জাতীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রূপান্তরের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই নতুন ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের লক্ষ্য। আর অর্থনৈতিক রূপান্তরের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনার জন্য বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের প্রয়োজন মেটাতে দুই হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।”
নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রটি প্রায় ৫,৮০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর লক্ষ্য শুধু রাজ্য থেকে প্রতিভাবানদের অন্যত্র চলে যাওয়া আটকানো নয়, কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে চলে যাওয়া বাংলার দক্ষ ও মেধাবী যুবকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এমনকি বিদেশে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের উচ্চদক্ষ ও প্রতিভাবান যুবকদের একদিন রাজ্যে ফিরে আসার পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফিরে আসুন। এখানে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন এই বার্তাই দিয়েছে যে শিল্পবান্ধব ও শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধারের এখনও সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরিতে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ছোট শিল্পোদ্যোগগুলিকেও সরকার সহায়তা করবে। আগামী দিনে রাজ্যে আরও বিনিয়োগ আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিভা ও দক্ষ জনশক্তির বাইরে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যের যুবকদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাঁর কথায়, রাজ্যে দক্ষ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ মানুষের কোনও অভাব নেই। তবে আগের সরকার যোগ্য যুবকদের প্রাপ্য সম্মান ও সুযোগ দিতে পারেনি।
এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের যুবকদের আর কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে যেতে হবে না। পশ্চিমবঙ্গের পুনর্গঠনে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রাজ্যে আরও বিনিয়োগ আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
“আমাদের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করা,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
_________


















