পটনা, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার জেরে উদ্বেগ বেড়েছে বিহারে। দুই অঞ্চলের মধ্যে সংযুক্ত নদী ব্যবস্থার কারণে গণ্ডক নদীর জলস্তরের দিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। তিব্বত অঞ্চল থেকে আসা বন্যার জল প্রথমে ভোতে কোশি নদীতে, সেখান থেকে ত্রিশূলী ও পরে নারায়ণী নদীতে প্রবাহিত হয়েছে। ভারতে প্রবেশের পর এই নারায়ণী নদীই গণ্ডক নামে পরিচিত।
বুধবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ নেপালে এই আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। টিমুরে, স্যাফ্রুবেসি এবং রাসুয়াগাধি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ভেসে গিয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আচমকা জলস্তর বৃদ্ধির উৎস ছিল তিব্বত অঞ্চল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হিমবাহের ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া কোনও বাধা হঠাৎ ভেঙে যাওয়ার ফলেই এই বিপুল জলধারা নেমে আসে।
এক আধিকারিক জানান, নদীর প্রবাহপথটি মোটামুটি তিব্বত—ভোতে কোশি—ত্রিশূলী—নারায়ণী—গণ্ডক—গঙ্গা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
তিনি বলেন, নেপালে বন্যার ঘটনা বিহারে গণ্ডক নদী নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে নেপালে বন্যা হলেই যে বিহারে অবিলম্বে বন্যা হবে, এমনটা নয়। কত পরিমাণ জল নিম্ন অববাহিকায় পৌঁছচ্ছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, অন্যান্য নদীর জলপ্রবাহ এবং ব্যারেজের মাধ্যমে জল নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক বিষয়ের উপর পরিস্থিতির প্রভাব নির্ভর করবে।
গণ্ডক নদী পশ্চিম চম্পারণের বাল্মীকিনগর দিয়ে বিহারে প্রবেশ করে। ফলে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বাল্মীকিনগর ব্যারেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের তরফে পশ্চিম চম্পারণের পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখার কথা জানানো হয়েছে। বাল্মীকিনগর এবং গণ্ডক অববাহিকায় জলস্তর বাড়লে চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্ব চম্পারণের নিচু এলাকা এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যা ও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিম ও পূর্ব চম্পারণের সংলগ্ন গোপালগঞ্জ জেলাতেও গণ্ডকের জলপ্রবাহ আচমকা বেড়ে গেলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গোপালগঞ্জের সংলগ্ন সিওয়ান জেলার গণ্ডক-সংযুক্ত নিচু এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে মুজফ্ফরপুর জেলার পশ্চিমাংশে জল জমা এবং নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
গণ্ডক নদী সারন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গঙ্গায় মিশেছে। ফলে ছাপরা-সহ নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিও নজরদারির আওতায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সারন ও বৈশালী জেলার সোনপুর-হাজিপুর অঞ্চলের কাছে গণ্ডক গঙ্গায় মিশেছে। তাই দুই জেলার নদীতীরবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
আধিকারিকের কথায়, নদী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বন্যার ঢেউ যত এগিয়ে যাবে, তার তীব্রতা বদলাতে পারে। দূরত্ব, নদীর জলধারণ ক্ষমতা, পথে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত জল এবং অন্যান্য জলবিদ্যাগত কারণ এর উপর প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, বিহারে প্রবেশের আগে জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে নেপালের আকস্মিক বন্যাকে বিহারের জন্য সরাসরি বা তাৎক্ষণিক বন্যার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা তাড়াহুড়ো হবে।
তবে নেপালের সঙ্গে নদী ব্যবস্থার সরাসরি সংযোগ থাকায় গণ্ডকের তীরবর্তী এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নিচু অঞ্চলে প্রশাসনের তরফে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
আইএএনএস
























