মুম্বই, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস):** মহারাষ্ট্রের সরকারি আদিবাসী হস্টেলে ভর্তির ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার। সরকারি হস্টেলের বৈষম্যমূলক নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের জীবনযাত্রার অভিযোগে আদিবাসী ছাত্রদের চলমান অনশন-বিক্ষোভের মধ্যেই মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী অশোক উইকে মঙ্গলবার একটি বৈঠকের পর ১৪ আগস্ট, ২০২৬-এর সরকারি নির্দেশিকা বা জিআর স্থগিত রাখার কথা জানান। হস্টেলের পরিকাঠামো, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর আমরা কোনও বয়সসীমা না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এর আগে দফতরের পক্ষ থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে ২৬ বছরের ঊর্ধ্বসীমার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের দাবি ছিল, সাধারণত তফসিলি উপজাতি বা এসটি ছাত্ররা ওই বয়সের মধ্যেই ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে ফেলেন।
সরকার আরও জানিয়েছিল, হস্টেলে জায়গা না পাওয়া ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্বয়ং যোজনা রয়েছে। এই প্রকল্পেও ৩০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে।
অশোক উইকে আধিকারিকদের হস্টেলে ভর্তির নিয়ম, সুযোগ-সুবিধা, প্রশাসনিক কাজের পদ্ধতি এবং পরিদর্শন ব্যবস্থার সংশোধিত নীতি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি হস্টেলগুলিতে পরিষেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় যাতে অভিন্নতা থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ছাত্রদের যাতে কোনও ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয় এবং হস্টেলে পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। হস্টেল ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করে ছাত্রকেন্দ্রিক, স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি।
সরকার বিক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠা নিয়মগুলি প্রত্যাহার করলেও আদিবাসী ছাত্ররা এখনও আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হননি। তাঁদের দাবি, আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, হস্টেলের পরিকাঠামো উন্নত করা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের অধীনে এসটি ছাত্রদের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য মোট ৪৯৪টি হস্টেল অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৯০টি বর্তমানে চালু রয়েছে। এই হস্টেলগুলিতে প্রায় ৫৮ হাজার থেকে ৬০ হাজার ছাত্রছাত্রী থাকেন।
গত ৫ আগস্ট জারি হওয়া একটি সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করেই বর্তমান বিক্ষোভের সূত্রপাত। ২০১১ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো হস্টেলের নিয়মগুলিকে একটি নির্দেশিকার মাধ্যমে একত্রিত করা হয়েছিল। সেখানে অনশন বা প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, অভিযোগ জানাতে হস্টেল ওয়ার্ডেন এবং প্রকল্প আধিকারিকের মাধ্যমে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা এবং ভর্তির ক্ষেত্রে ২৬ বছরের বয়সসীমা চালু করা হয়।
ছাত্রদের অভিযোগ ছিল, এই নিয়মের ফলে বেশি বয়সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা বহু আদিবাসী ছাত্র হস্টেলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়েও তাঁরা অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ ছুটির পর হস্টেলে ফিরে আসা মহিলা ছাত্রদের গর্ভধারণ এবং অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে বলা হয়েছিল।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ১৪ আগস্ট দফতর নতুন একটি জিআর জারি করে। সেখানে ভর্তির বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয় এবং প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়। যদিও ৫ আগস্টের আগে হস্টেলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও ঊর্ধ্ব বয়সসীমাই ছিল না।
এর আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে চিঠি লিখে আদিবাসী ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, নিজেদের অধিকারের দাবিতে আদিবাসী ছাত্ররা ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন।
রাহুল গান্ধী হস্টেলে অপমানজনক নিয়ম, অনিরাপদ পরিবেশ এবং মহিলা ছাত্রদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ পরীক্ষার মতো অমানবিক বিধির অভিযোগ তুলে সরব হন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশকে ছাত্রদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের অভিযোগের সমাধান করার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, হস্টেলগুলিতে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে ছাত্ররা আহত হওয়ার পাশাপাশি সাপের কামড়ে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে।



















