পটনা, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখানো পড়ুয়াদের সঙ্গে মঙ্গলবার পটনায় আর্যভট্ট নলেজ ইউনিভার্সিটির (একেইউ) বাইরে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষার ফল নিয়ে অভিযোগ জানাতে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একেইউ ক্যাম্পাসেই বিহার ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের কার্যক্রম চলে। এলাকাটি জক্কনপুর থানার অধীনে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীদের সামলাতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশকর্মীদের সঙ্গে পড়ুয়াদের এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
অভিযোগ, বিক্ষোভকারী কয়েকজন পড়ুয়া পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা চালান বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে পুলিশকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে পিছিয়ে যান।
সংঘর্ষে দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা পুলিশকর্মী রয়েছেন। জিতেন্দ্র কুমার নামে আরও এক পুলিশকর্মীর মাথা ও পায়ে আঘাত লাগে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে এক পুলিশকর্মীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং কয়েকজন পড়ুয়াকে তাঁকে মারধর করতে দেখা যায়। তবে কিছু পড়ুয়াকে অন্যদের হামলা থামানোর জন্য বলতেও শোনা যায়। পরে ওই পুলিশকর্মী নিরাপদ জায়গায় সরে যান।
বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরিস্থিতির মধ্যে কিছু সম্পত্তি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পথচারীদের কয়েকটি গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গেও বিক্ষোভকারীদের বচসা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, পড়ুয়াদের দাবি, পরীক্ষার ফলাফলের অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে। যদিও পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ এবং সংঘর্ষের পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা থাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগই এই বিক্ষোভের মূল কারণ বলে জানা গেছে। তবে ফলাফল নিয়ে পড়ুয়াদের অভিযোগ এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।


















