ভুবনেশ্বর, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): সদ্য পাস হওয়া খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) বা এমএমডিআর সংশোধনী আইন, ২০২৬ প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে বড়সড় বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী দলগুলির ইন্ডিয়া ব্লক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই আইন কার্যকর হলে ওড়িশা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।
বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কংগ্রেস ভবন থেকে একটি বড় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি লোয়ার পিএমজি-তে পৌঁছলে সেখানে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রের নীতিতে ওড়িশা বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রের সমালোচনা করেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্র যথাযথ পদক্ষেপ করছে না।
বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক এমএমডিআর সংশোধনীর ফলে ওড়িশা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এই আইন নিয়ে ওড়িশা সরকারের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উচিত ছিল এই সংশোধনীর বিরোধিতা করা।
বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে অবিলম্বে এমএমডিআর সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বিরোধী নেতারা আইনটিকে জনবিরোধী এবং ওড়িশার স্বার্থের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেন। তাঁরা জানান, এই ইস্যুতে কোনও আপস করা হবে না। কেন্দ্র আইনটি পুনর্বিবেচনা না করলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারিও দেন বিরোধী নেতারা।
বিক্ষোভ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুল পোড়ান আন্দোলনকারীরা। বিরোধী দলগুলির নেতারা জানান, ওড়িশার স্বার্থ রক্ষা এবং রাজ্যের খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্য রাজস্বের অংশ সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিকে, মঙ্গলবার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকেও কংগ্রেস ২০২৬ সালের এমএমডিআর সংশোধনী আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
সাংবাদিকদের সামনে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রসাদ কুমার হরিচন্দন বলেন, এই সংশোধনী আইন সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যগুলির আর্থিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। কংগ্রেস এই আইন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আইনটি ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেয়েছে, তাই এখন তাঁদের দাবি স্পষ্ট। কেন্দ্রকে এই আইন প্রত্যাহার ও বাতিল করে রাজ্যগুলির সাংবিধানিক এবং আর্থিক অধিকার পুনর্বহাল করতে হবে।


















