নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): প্রতিকূলতাকে জয় করে দেশের অসংখ্য মানুষ, পরিবার ও সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করার জন্য ভারতের প্যারা অ্যাথলিটদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ যুবসমাজের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্যারা অ্যাথলিটদের সাফল্য শুধু পদক জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁদের লড়াই ও অর্জন মানুষের জীবন সম্পর্কে ভাবনাকেও বদলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্যারা অ্যাথলিটরা খেলাধুলা কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে, তার বড় উদাহরণ। মাঠে একজন প্যারা অ্যাথলিটকে দেখলে জীবন সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনাই বদলে যায়। আর সেই অ্যাথলিট যখন সাফল্য অর্জন করেন, তখন তাঁর সঙ্গে তাঁর পুরো পরিবারও যেন নতুন জীবন পায়।”
তিনি আরও বলেন, যেসব বাবা-মা, ভাই-বোন তাঁদের সন্তান বা পরিবারের সদস্যকে ক্রীড়াজীবনের শুরুতে কঠিন লড়াই করতে দেখেন, সেই অ্যাথলিটের সাফল্য তাঁদের স্বপ্নকে আরও বড় করে এবং নতুন সাহস জোগায়। এমন ক্রীড়াবিদদের তিনি সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখেন বলেও জানান।
ভারতের প্যারা ক্রীড়াক্ষেত্রের একাধিক তারকার সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তিরন্দাজ শীতল দেবী, প্যারা শুটার অবনী লেখারা, জ্যাভলিন থ্রোয়ার সুমিত আন্তিল, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় নীতেশ কুমার এবং সাম্প্রতিক চ্যাম্পিয়ন জন্দু কুমার।
শীতল দেবীর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারালিম্পিকে তাঁর পদক জয়ে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর এবং দেশ গর্বিত হয়েছিল। একইভাবে অবনী লেখারা দু’বার প্যারালিম্পিকে পদক জয় করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সুমিত আন্তিল, নীতেশ কুমার এবং জন্দু কুমারের মতো প্যারা অ্যাথলিটরাও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, “খেলাধুলা আরও ভালো জীবনের নিশ্চয়তা দেয় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।”
সুস্থ সমাজ, শক্তিশালী পরিবার এবং উন্নত সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, একজন ক্রীড়াবিদের মানসিকতা মাঠের বাইরেও জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মানুষ শেখে কীভাবে পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। খেলাধুলা শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শিক্ষা দেয় না, বরং আরও ভালো প্রতিযোগী এবং আরও দৃঢ় মানসিকতার মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে।
ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী আধুনিক ক্রীড়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র—প্রতিভা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ক্রীড়াবিদদের সহায়তা করার জন্য একটি পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এছাড়া ক্রীড়াবিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও কোচিং-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারত কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘খেলো ইন্ডিয়া সংবাদ’-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মোদি বলেন, এটি শুধুমাত্র খেলাধুলা নিয়ে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম নয়। ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা বিকাশ, প্রশাসন এবং ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে যুবসমাজের মতামত ও পরামর্শ এই প্ল্যাটফর্মে উঠে আসে। যুবকদের নতুন চিন্তাভাবনা নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজের নতুন ধারণাই আগামী দিনের বিকশিত ভারতের শক্তি হয়ে উঠবে।


















