নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের মানুষের জীবনে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রবীণ ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিংয়ের জীবনের উদাহরণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি ফৌজা সিংয়ের খেলাধুলা ও ফিটনেসের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফৌজা সিংয়ের জীবন খেলাধুলা ও উন্নত জীবনযাত্রার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ। গত বছর ১১৪ বছর বয়সে প্রয়াত ফৌজা সিংকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ম্যারাথন দৌড়বিদদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১০০ বছর বয়সেও ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন।
মোদি বলেন, “আমরা সবাই ফৌজা সিংজি সম্পর্কে জানি। ১০০ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে থাকার পর গত বছর তিনি প্রয়াত হন। খেলাধুলা ও ফিটনেসের প্রতি ভালোবাসা থাকলে ফৌজা সিংজি তার একটি উদাহরণ। খেলাধুলার সঙ্গে জীবনযাত্রার মানের সম্পর্ক কতটা গভীর, তাঁর জীবন তার বড় অনুপ্রেরণা।”
দেশে খেলাধুলা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষ ৫ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার দৌড়, ট্রায়াথলন-সহ বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে অনেকে পিকলবল ও ব্যাডমিন্টনও খেলছেন।
তাঁর মতে, এগুলি ছোট ছোট পরিবর্তন হলেও সামগ্রিকভাবে দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। খেলাধুলা এখন ধীরে ধীরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছে।
মোদি বলেন, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে সময়সূচি তৈরির পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন রুটিনেও খেলাধুলার জায়গা তৈরি হচ্ছে। ক্রীড়াকে শুধুমাত্র ‘সহ-পাঠক্রমিক কার্যকলাপ’ হিসেবে না দেখে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হলে দেশের প্রতিভার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব শিশু খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চায়, তাদের পরিবার থেকেও এখন আগের তুলনায় বেশি সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্পোর্টস সেন্টার স্ক্রিনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠ প্লে-স্টেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” দেশের যুবসমাজকে এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের যুবসমাজই ভারতের শক্তি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের ক্ষমতা ও সাফল্যের উপর তাঁর গভীর আস্থা রয়েছে। মাঠে কিংবা সমাজের যে কোনও ক্ষেত্রে যুবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই ভারতের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
—আইএএনএস
























