নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের একাধিক শহরে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১), যা সাধারণভাবে সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও আতঙ্কের কারণ নেই বলে জানালেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) ডিরেক্টর জেনারেল ড. রাজীব বাহল। তাঁর দাবি, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া বেশিরভাগ সংক্রমণই মৃদু প্রকৃতির এবং নিজে থেকেই সেরে যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের প্রকোপ কমতে শুরু করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড. বাহল বলেন, এইচ১এন১ একটি মরসুমি ফ্লু। সাধারণত যে কাশি, সর্দি-জ্বর দেখা যায়, তারই একটি বড় অংশ বর্তমানে এইচ১এন১ ভাইরাসের কারণে হচ্ছে। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসেরই একটি ধরন।
তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অধিকাংশ আক্রান্তের উপসর্গ খুবই মৃদু এবং সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই সেরে যাচ্ছে। তাই অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাশি বা সর্দি হলেই কোন ভাইরাসের কারণে তা হয়েছে, তা জানতে প্রত্যেকের পরীক্ষা করানোরও দরকার নেই। চিকিৎসার ধরন নির্ধারণে পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হলে তবেই পরীক্ষা করা উচিত বলে জানান তিনি।
ফ্লু-এর মতো উপসর্গ, যেমন কাশি, সর্দি বা জ্বর দেখা দিলে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা, সুষম খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল।
তিনি বলেন, উপসর্গ থাকা অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি।
যারা সুস্থ রয়েছেন, তাদেরও হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন পৃষ্ঠ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের উপসর্গ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায় বলে জানান ড. বাহল।
তবে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অন্য কোনও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বর্তমানে এই রোগকে বিশেষভাবে গুরুতর করে দেখার মতো কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মরসুমি সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতি বছরই আক্রান্তের সংখ্যা ওঠানামা করে এবং শুধুমাত্র সংক্রমণ বাড়লেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
ড. বাহল জানান, সাধারণত প্রতিটি সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনোর পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ঠিক কখন সংক্রমণের প্রকোপ কমবে তা আগে থেকে বলা সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
বর্তমানে রোগীদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১), এইচ৩এন২ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা বি-এর ভিক্টোরিয়া লিনিয়েজের মতো স্ট্রেন শনাক্ত হচ্ছে। এই স্ট্রেনগুলির সংক্রমণে উপসর্গগুলিও অনেকটা একই ধরনের বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি কিছু কোভিড সংক্রমণের ঘটনাও রয়েছে বলে জানান আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল। তবে সেগুলির সংখ্যাও বর্তমানে কমতে শুরু করেছে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও গুরুতর কোভিড কেস শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানান।
বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিরা ফ্লু-এর টিকা নেওয়া প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন বলেও পরামর্শ দিয়েছেন ড. বাহল।























