কল্যাণপুর, ২৫ আগস্ট: টানা দু’দিনের ভারী বৃষ্টিতে কল্যাণপুর ব্লকের বিস্তীর্ণ আমন ধানক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। বিশেষ করে দুর্গাপুর ও পশ্চিম দ্বারিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগানবাজার কৃষি সেক্টরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে ধানগাছ বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে জলের নিচে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কৃষি দপ্তর ও প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে ছিলেন সার্কেল ইনচার্জ সজল দাস, সেক্টর অফিসার তনুজ দেববর্মা এবং সার্কেল ইনচার্জ রবীন্দ্র কুমার বণিক। তাঁরা জলমগ্ন ধানক্ষেত ঘুরে দেখার পাশাপাশি সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এদিকে ঘিলাতলি এলাকাতেও দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলি পরিদর্শন করে কৃষি দপ্তরের একটি দল। সেক্টর অফিসার রণবীর দেববর্মার নেতৃত্বে ওই দল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ঘুরে দেখে পরিস্থিতি খতিয়ে নেয়। কৃষকদের আশ্বস্ত করা হয়, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষি দপ্তরের কৃষি তত্ত্বাবধায়ক দেবরাজ বর্মণ জানান, বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ধানগাছ জলের নিচে থাকলেও এখনও পর্যন্ত সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয়। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ফসল বিমার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন, ফলে ফসলের ক্ষতির ক্ষেত্রে তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে, জমিতে জল জমে থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃষ্টি আরও চলতে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। দ্রুত জমি থেকে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সঠিকভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের বক্তব্য, সময়মতো ফসল বিমার ক্ষতিপূরণ পেলে অতিবৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক ক্ষতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
ওই এলাকাগুলিতেও কৃষি দপ্তর ও ফসল বিমা প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করছেন। হঠাৎ জলবায়ুগত পরিবর্তন ও অতিবৃষ্টির কারণে গ্রামীণ কৃষি যে কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, কল্যাণপুরের আমন ধানক্ষেত জলমগ্ন হওয়ার ঘটনায় তা আবারও সামনে এসেছে। কৃষি দপ্তরের নজরদারি ও ফসল বিমার সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার আশায় রয়েছেন।






















