রাঁচি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): জেএমএম-নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে জেপিএসসি-জেএসএসসি অ্যাসপির্যান্ট ন্যায় মঞ্চের পড়ুয়াদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানালেন, সরকার তাঁদের দাবিগুলি শুনেছে এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন তাঁরা।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা।
প্রতিনিধি দলের সদস্য অমিত বলেন, “ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের যন্ত্রণা ও দুর্ভোগের প্রতিটি বিষয় আমরা সরকারের সামনে তুলে ধরেছি। ২০২৪ সালে ঝাড়খণ্ড এক্সাইজ কনস্টেবল নিয়োগের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় দৌড়ের সময় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও আমরা জানিয়েছি।”
তিনি বলেন, “কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে না পৌঁছনো পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
সরকারকে ‘অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করে অমিত বলেন, “আমরাই তাঁদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছি। সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে দাবিগুলি বিবেচনা করা হবে। আমরা সেই বিষয়ে আশাবাদী।”
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিনিধি দলের আর এক সদস্য চন্দন জানান, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। সমস্ত দাবি তথ্য ও প্রমাণ-সহ সরকারের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়ারা আগে থেকেই বিভিন্ন সমস্যার তথ্য ও প্রমাণ তাঁদের কাছে দিয়েছিলেন এবং সেই সমস্ত বিষয় বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চন্দন বলেন, সরকার তাঁদের উদ্বেগগুলি নথিভুক্ত করেছে এবং শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, “আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। যে সহযোদ্ধারা অনশন করছেন, তাঁরাও অনশন চালিয়ে যাবেন। সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, কবে নাগাদ আমাদের দাবিগুলি পূরণ হবে।”
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হল টিডিপিএল নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত সেই সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা, যেগুলির ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
চন্দন বলেন, পরীক্ষার দায়িত্ব টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর মতো বিশ্বাসযোগ্য সংস্থাকে দেওয়া হোক অথবা কমিশন নিজেই পরীক্ষা পরিচালনা করুক। কালো তালিকাভুক্ত সংস্থাকে পরীক্ষার দায়িত্ব দিয়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা বন্ধ করারও দাবি জানান তাঁরা।
আট সদস্যের প্রতিনিধি দলের সদস্য রবীশঙ্কর জানান, সরকার তাঁদের যথেষ্ট সময় দিয়েছে এবং তাঁরা যে সমস্ত বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলি বিস্তারিতভাবে নোট করেছে।
তাঁরাও টিডিপিএলের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা বাতিল এবং দ্রুত পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি জেএসএসসি সিজিএল পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের সিবিআই তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে।
রবীশঙ্কর বলেন, “সিবিআই তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।” এর পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড এক্সাইজ কনস্টেবল নিয়োগের দৌড়ের পরীক্ষায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার তাঁদের সমস্ত দাবিই “গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে”।
প্রতিনিধি দলের আর এক সদস্য দিনবন্ধু মণ্ডল বলেন, বাতিল হওয়া প্রতিটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ছয় মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদ পূরণ এবং মেধাতালিকা প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আলোচনায় যা বোঝা গিয়েছে, তাতে সরকার আমাদের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে এবং আশা করছি, তারা পদক্ষেপ করবে। তবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চলবে।”



















