নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): বিহারের প্রতিভা ও বিভিন্ন পণ্য এবার আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের নতুন পরিচয় তৈরি করছে বলে শনিবার মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ভারতের নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ফলে বিহারের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, বস্ত্র, চামড়া, জুতো, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক এবং ওষুধ শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা আরও খুলে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে গোয়েল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন এফটিএগুলির মাধ্যমে বিহারের বিভিন্ন পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ছে। এর ফলে রাজ্যের কৃষি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, টেক্সটাইল, লেদার, ফুটওয়্যার, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্র উপকৃত হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৬৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি করেছে। বিভিন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও গভীর হচ্ছে। এর ফলে রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ার পাশাপাশি শ্রমনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভারতীয় সংস্থা ও উদ্যোগপতিদের সুযোগ বাড়ছে।
রফতানি বাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর, বড় অর্থনীতির দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা এবং এক্সপোর্ট প্রোমোশন মিশন, বিদেশে ভারতীয় মিশন, এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল (ইপিসি), শিল্প সংগঠন-সহ বিভিন্ন অংশীদারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রফতানি উন্নয়ন কর্মসূচি।
সরকার গত পাঁচ বছরে মোট নয়টি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত-মরিশাস কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইসিপিএ), ভারত-সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সিইপিএ, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (ইন্দ-অস ইসিটিএ), ভারত-ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (ইএফটিএ) ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (টিইপিএ), ভারত-ওমান সিইপিএ, ভারত-যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইটিএ) এবং ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক পরিপূরকতার উপর ভিত্তি করে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা হয়। এর ফলে রফতানির সম্ভাবনা বাড়ে, শিল্প ও কৃষকরা সুবিধা পান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়।
বিশেষ করে বস্ত্র, পোশাক এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো শ্রমনির্ভর শিল্পের জন্য এফটিএগুলিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশের সুযোগ থাকে। এর ফলে উৎপাদন, রফতানি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গতি আসে।
সরকারের দাবি, এই চুক্তিগুলির লক্ষ্য হল ন্যায্যতা, পারস্পরিকতা এবং সমস্ত অংশীদারের সামগ্রিক সুবিধার ভিত্তিতে একটি ব্যাপক, ভারসাম্যপূর্ণ, বিস্তৃত এবং ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করা।
এফটিএগুলিতে ‘টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড’ বা বাণিজ্যে প্রযুক্তিগত বাধা সংক্রান্ত বিধানও রাখা হয়। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মান, প্রযুক্তিগত নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের জন্য রফতানি বাজারে প্রবেশ আরও সহজ ও কার্যকর হয়।
অশুল্ক বাণিজ্য বাধা বা নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স (এনটিবি) দূর করে ভারতীয় রফতানির বাজার আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।



















