আগরতলা, ৮ আগস্ট: ত্রিপুরায় বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরা দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎ-উদ্বৃত্ত রাজ্যের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার ফল ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন ্সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার।
শনিবার আগরতলায় বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বেঁচে থাকার মৌলিক বিষয়গুলি বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার ফল ভোক্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মানিক সরকারের দাবি, ত্রিপুরায় বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই। তাঁর বক্তব্য, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরা দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎ-উদ্বৃত্ত রাজ্যের মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছিল। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যেও সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ রাজ্যের অভ্যন্তরেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, খুঁটি ও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন এবং সেগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে কেন যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানিক সরকার জানান, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহকুমা স্তরে গ্রাহকদের সংগঠন গড়ে উঠছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশনও দেওয়া হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ দফতরের কার্যালয়ে হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকারি ভবন ও পরিকাঠামো আসলে জনগণের অর্থে তৈরি সম্পদ। তাই দাবি আদায়ের আন্দোলন গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের উপর গণতান্ত্রিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানান মানিক সরকার। তাঁর অভিযোগ, সরকারের দুর্বলতা, ভুল, উদাসীনতা এবং ‘ফাঁকা প্রচার’-এর বাইরে বেরিয়ে এসে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর—জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তাই বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে মানুষের সমস্যাকে আর উপেক্ষা না করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।



















