কলকাতা, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): তোলাবাজি, বেআইনি জমি দখল এবং ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সনৎ দে-কে শনিবার ভোরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার পাশাপাশি তোলাবাজি ও বেআইনিভাবে জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সনৎ দে-র বিরুদ্ধে। শনিবার তাঁকে জেলা আদালতে পেশ করা হবে। সেখানে সরকারি আইনজীবী তাঁর পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানাবেন।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে-র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি ও বেআইনি জমি দখলের অভিযোগ ছিল। এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল।
প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর নৈহাটি বিধানসভা আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সনৎ দে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ওই উপনির্বাচনে তিনি ৪৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তবে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন।
চলতি বছর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সনৎ দে-কে ঘিরে এলাকায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। জুন মাসে নৈহাটিতে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তাঁর দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ তোলেন। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
কয়েকদিন আগে সনৎ দে-র বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এরপর তদন্তকারী সংস্থাগুলির লাগাতার প্রচেষ্টার পর শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড়সড় পরাজয়ের পর প্রাক্তন শাসক দলের একাধিক নেতা ও কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে দলের কয়েকজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি ও নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবারের গ্রেফতারের পর সনৎ দে-ও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া শুরু হল।
—আইএএনএস



















