গুয়াহাটি, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসমের শিবসাগর জেলায় দ্রুতগতিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা নিরাপদে একাধিক ট্রান্সফরমার পুনরায় সংযুক্ত করেছেন, যার ফলে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের দল নিরাপদে আরও বহু ট্রান্সফরমার চালু করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে শিবসাগর জেলায় বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫৮ শতাংশ কমেছে। আমরা ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিডিসিএল)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে শিবসাগর জেলায় মাত্র ২,২৭৪ জন গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। পুনরুদ্ধার অভিযানের ফলে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রিপোর্টে জানানো হয়েছে, জেলার সমস্ত ৩৩ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন এবং ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। ১১ কেভি ফিডার নেটওয়ার্কেও কোনও বড় ত্রুটি নেই। কেবল বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে একটি ফিডার এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তবে বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে এখনও ৬১টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার (ডিটিআর) পুনরায় সংযুক্ত করা বাকি রয়েছে। এর ফলে সীমিত সংখ্যক গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে সেসা-ডি২ (শিবসাগর ইএসডি-২)-এ ৯২০ জন, গৌরীসাগরে ৭৯৯ জন, শিবসাগর ইএসডি-১ এলাকায় ৩৭৫ জন এবং নজিরায় ১৮০ জন গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। অন্যদিকে, আমগুড়ি ও ডেমো মহকুমায় সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বন্যায় উপর অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ও এপিডিসিএল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেরামতির কাজ জোরদার করেছে। আধিকারিকদের দাবি, বাকি এলাকাগুলিতেও দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।



















